প্রতিনিধি
চাঁদপুর বড় স্টেশন লঞ্চঘাট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? সেখানে প্রতিদিন চলছে যাত্রী হয়রানি। যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়ম ছাড়াই আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
যাত্রীরা জানায়, লঞ্চ-স্টিমার যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নামার সাথে সাথে একটি সংঘবদ্ধ দল যাত্রীদের ব্যাগ ও আসবাবপত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেয়। এদের দিয়ে ব্যাগ ও আসবাবপত্র বহন করলেও তাদেরকে চাঁদা দিতে হয়। এমনকি নিজেরা বহন করলেও যাত্রীদেরকে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনগুণ পর্যন্ত টাকা দিতে হয়। এ ব্যাপারে বেশ ক’জন যাত্রী ক্ষোভের সাথে বলেন, মনে হচ্ছে এ দেশে কোনো আইন নেই। সাধারণ যাত্রীদের হাতের ব্যাগ বহন করলেও এদেরকে চাঁদা না দিলে যাত্রীদের হয়রানি, গালমন্দ এমনকি তাদের হাতে যাত্রীদেরকে লাঞ্ছিতও হতে হয়।
চাঁদপুরের অস্থায়ী নৌ-টার্মিনালের পুরো এরিয়া ঘুরে টার্মিনাল দিয়ে বহনকরা পণ্যের উপর ট্যাক্স বা ইজারা আদায়ের কোনো নির্দিষ্ট চার্ট পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালের ইজারাদার ইউসুফ আলী বেপারী। তিনি ৫১ লাখ টাকায় এক বছরের জন্যে ইজারা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে ইউসুফ আলী বেপারীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, টার্মিনাল দিয়ে বহনকরা পণ্যের উপর ট্যাক্স বা ইজারা আদায়ের জন্যে আমাদের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। আমরা যেই টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছি, আমাদের অনেক লোকসান হবে। তাই আমরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে মালের ট্যাক্স বা ইজারা আদায় করে থাকি।
যাত্রীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম ছাড়াই আপনারা হয়রানি ও জোরপূর্বক বেশি টাকা আদায় করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে মালের ট্যাক্স আদায় করি। অনেক সময় যাত্রীরা এ নিয়ে আমাদের সাথে বাকবিতন্ডা করে, অযথা ঝগড়া করে, আমরা কিছু বললেই দোষ। কিন্তু যাত্রীরা যে আমাদের সাথে অনেক সময় ঝগড়া বিবাদ করে এবং মালের ট্যাক্স দিতে চায় না, সেটা কিন্তু দোষ হয়না। তিনি জোরপূর্বক টাকা আদায় ও যাত্রী হয়রানির কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমরা যাত্রীদের হয়রানি করিনা, বরং যাত্রীরাই মালের ট্যাক্সের ব্যাপারে টাকা চাইলে তারা আমাদেরকে দিতে চায় না এবং আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে।
এ ব্যাপারে পোর্ট অফিসার মোবারক হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আসলে আমরা তো চার্ট টানিয়ে রেখেছি, আপনি দেখেননি? পুরো বন্দর এরিয়া ঘুরে কোথাও মাল পরিবহনের ওপর ট্যাক্স বা ইজারার নির্দিষ্ট কোনো চার্ট পাওয়া যায়নি বলে জানালে তিনি বলেন, ওহ, আসলে নতুন ইজারা দেয়া হয়েছো তো, তাই হয়তো টানানো হয়নি। তবে কালকের (আজ মঙ্গলবার) মধ্যে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যাত্রী হয়রানির ও লাঞ্ছনার বিষয়ে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসলে আমার জানামতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বেশ ক’দিন আগে ঢাকা থেকে আগত ক’জন সাংবাদিকের সাথে একটু সমস্যা হয়েছিলো। আমি সেখানে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি।
যাত্রী হয়রানির বিষয়ে এ প্রতিবেদক কিছু তথ্য জানালে তিনি বলেন, যদি এমনটা সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে যাত্রীরা আমাদের কাছে অথবা সেখানে কর্তব্যরত পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি।
যাত্রীদেরকে ইজারাদের লাঞ্ছনা ও অবৈধ চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে আপনাদের কোনো মনিটরিং টিম আছে কি-না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমাদের যা লোকবল আছে, তারা সব সময় সেখানে থাকতে পারে না, মাঝে মাঝে গ্যাপ হয়ে যায়, হয়তো সেই সুযোগে ইজারাদারদের লোকজনরা এমনটি করে থাকে। তবে এসব বিষয়ে যদি নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় প্রয়োজনে আমরা ইজারা বাতিল করে দেবো। –
শিরোনাম:
রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
