
শরীফুল ইসলাম ঃ
সম্প্রতি চাঁদপুর জেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটছে। গত সপ্তাহে পর পর দু’দিন হাজীগঞ্জে ও ফরিদগঞ্জে দুটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বেসরকারি হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সম্পদহানি হয়। এর দ্বারা অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। কারো কারো বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ব্যবসার শেষ পুঁজি ছাই হয়ে গেছে। রোজা, ঈদ কী জিনিস এ পরিবারগুলোতে সে অনুভূতি নেই। আর এ দুটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। শুধুমাত্র নিজেদের অসচেতনতা, অবহেলা ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির কারণেই শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডগুলো ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টজন এবং ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং য়তিও হয় বেশি। চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরিদ আহমেদ মনির চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় মোট ১শ’ ১৪টি ছোট বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা
ঘটেছে। এর অধিকাংশই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। তাদের হিসেব মতে এসব অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদহানি হয়েছে। আর খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস বাহিনী গিয়ে উদ্ধার করতে পেরেছে প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পদ। কী কারণে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হয় এর জবাবে এ ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা বললেন, দুটি কারণ থাকতে পারে। একটি হচ্ছে বৈদ্যুতিক তারসহ বিদ্যুতের অন্য সরঞ্জামাদি নিম্নমানের হলে, আর আরেকটি হচ্ছে কমপে ৬ মাস পর পর লাইন চেক করার নিয়ম থাকলেও তা না করা। আর এসব হয়ই মানুষের অসতর্কতা ও অবহেলার কারণে। তিনি জানান, নিয়ম রয়েছে দ ইলেক্ট্রিশিয়ান দ্বারা ৬ মাস পর পর লাইন চেক করা। লাইনে কোথাও কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা দেখে নেয়া। কিন্তু আমরা কেউই তা করি না। তিনি আরো জানান, চাঁদপুর শহরের মধ্যে রেলওয়ে হকার্স মার্কেট হচ্ছে সবচেয়ে বড় মার্কেট। এ মার্কেটের দোকান একটির সাথে আরেকটি লাগোয়া। দেখা গেছে যে, এ মার্কেটে বিদ্যুৎ লাইনে অনেক ত্রুটি আছে। পুরো মার্কেটের লাইন কখনো দ ইলেক্ট্রিশিয়ান দ্বারা চেক করা হয়েছে বলে মনে হয় না। আর বিদ্যুতের লাইনগুলোও অনেক দুর্বল। তাই আমরা হকার্স মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি। আল্লাহ না করুক, কখনো যদি বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তাহলে সেটা খুবই ভয়াবহ হবে। তাই এ ব্যাপারে মার্কেট কর্তৃপকে এখনই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া তিনি মার্কেটে ধূমপান না করার জন্যও পরামর্শ দেন।
কথা হয় চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে। তিনিও বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণ একই উল্লেখ করলেন। তিনি জানান, ৬ মাস কিংবা ৯ মাস পর পর লাইসেন্স হোল্ডারের মাধ্যমে বিদ্যুতের লাইন চেক করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমরা কেউই তা মানছি না। তাছাড়া নিম্নমানের তারসহ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করার ফলেও শর্ট সার্কিট হতে পারে।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
