প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জে এক গৃহবঁধূকে তাড়াতে নির্মম নির্যাতন ও মধ্যযুগের বর্বরতা চালাচ্ছে শশুরালয়ের লোকজন। সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের মৃত আহাম্মদ উল্যার ছেলে অহিদুর রহমান বাচ্ছু মিয়ার সাথে একই গ্রামের মৃত মোঃ ইয়াকুব আলীর মেয়ে রহিমা আক্তার রাণীর বিগত ১৯/০৯/২০০৩ বিবাহ হয়। বিবাহের ২ বছর পর রাণীর স্বামী বাচ্ছু মিয়া তার শাশুরীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা কর্জ করে বিদেশে চলে যায়। গত ৪ বছর আগে সৌদি প্রবাসী বাচ্ছু মিয়া ছুটিতে বাড়িতে আসে এবং পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। রাণীর স্বামী বাচ্চু মিয়া তার শাশুরীর কর্জকৃত টাকা না দিয়ে সে কৌশলে বিদেশ চলে যায়। বিদেশে গিয়ে তার ভাতিজা নবী হোসেনকে দিয়ে রাণীকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্য নির্মম নির্যাতন চালাতে থাকে।
রাণী বেগম সাংবাদিক জানায়, তার স্বামী বাচ্চু মিয়ার নির্দেশে তার আত্মীয় নবী হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, অজুবের নেছা, রুহুল আমিনসহ আরো অজ্ঞাত ৪/৫ জন রাণীকে মারধর করে তার বসতঘর থেকে তাকে বের করে তার ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র নিয়ে যায় এবং তার পাকের ঘর আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয় ও ঘরের দরজায় তালা ও লৌহা মেরে বন্ধ করে দেয়। বসতঘরের দরজায় বালু পেলে রাখে যাতে আমি ঘরে প্রবেশ করতে না পারি। আমি নিরূপায় হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গেলে চেয়ারম্যান সাহেব ওয়ার্ড মেম্বারসহ আমাকে স্বামীর ঘরে থাকতে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাসুরের ছেলে নবী হোসেন তার সহযোগিদের নিয়ে আমার বসত ঘরের সামনে এসে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, যদি ২ দিনের মধ্যে ঘর থেকে বের না হই, তাহলে আমাকে প্রাণে মেরে গুম করে ফেলবে।
এলাকাবাসী জানায়, রাণীকে তাড়াতে অমানুষিক নির্যাতন ও মধ্যযুগের বর্বরতা চালাচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণী করছে তার শশুরালয়ের লোকজন। রাণী বেগম এখন ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারছে না। খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে সে। এই বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, সমাজে বিবাহ করার যেমন বিধান আছে ছাড়ারও বিধান আছে। কিন্তু এ কেমন বর্বরতা? গৃহবঁধূকে এইভাবে নির্যাতন করা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই বিষয়ে মাললার প্রস্ততি চলছে বলে রাণীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ৫ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
