মিজান লিটন
শাহ্রাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় ৪ দিনের মাথায় আবারো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।
গত ২৬ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে আয়নাতলী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি দোকান ভস্মীভূত হওয়ার পর গতকাল ৩০ নভেম্বর ঐ এলাকার মিয়াজী বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ৬টায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৫টি বসতঘর ও ৩টি রান্নাঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। আগুন লাগার পর এলাকাবাসী শাহ্রাস্তি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত হন। প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা সক্ষম হন।
এলাকাবাসী আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। এ সময় দুজন আহত হন। আহতরা হলেন মিজি বাড়ির মৃত মফিজ উদ্দিনের পুত্র আঃ রব (৫০) ও শাহ আলমের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (১৮)। পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর মধ্যে মুহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের ৪টি বসতঘর ও ২টি রান্না ঘর এবং হানিফ দরবেশের পুত্র আবুল হাসেমের (৪৮) ১টি বসতঘর ও ১টি রান্না ঘর। মোহাম্মদ আলীর পুত্র মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, তার ভাই সফিকুল ইসলাম প্রবাসে থাকেন। তার বাসায় রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্যে তার নানা শ্বশুর আব্দুল হালিম ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আয়নাতলী বাজার থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করে নিয়ে আসেন। সিলিন্ডারটি বাসায় সংযোগ দেয়ার পর এটি চালু দিলে হঠাৎ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। তিনি আরও জানান, তাদের ঘরে থাকা ১৫ থেকে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া আবুল হাসেমের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। সবকিছু হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এলাকাবাসীকে তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা গেছে।
সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখেন শাহ্রাস্তি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়ের কবির বাহাদুর।
