
স্টাফ রিপোর্টার
মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজার সংলগ্ন সারপাড় গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ননদ, ভাসুর ও শাশুড়িসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে নিহতের বাবা। গত ২৫ নভেম্বর নিহত গৃহবধূ জেসমিন আক্তারের প্রতিবন্ধী বাবা মোঃ মিজানুর রহমান বাদী হয়ে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে এ হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন তিনি। মামলায় গৃহবধূর ভাসুর লিটন, শাশুড়ি হালিমা বেগম, ননদ নাজমা আক্তার, গৃহবধূর উকিলবাপ বাবু খান, জা নিপা আক্তার ও তার বাবা আইয়ুব মাস্টার এবং মোঃ নাসিরসহ ৮ জনকে আসামী করা হয়েছে বলেও বাদী জানান। মামলার অন্যতম আসামী নিহত গৃহবধূর উকিলবাপ বাবু খান প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে বাদী মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান। জেসমিন আক্তারের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে বার বার পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তিনি। গত ২৬ অক্টোবর সৌদি প্রবাসী নাসির উদ্দিনের স্ত্রী জেসমিনের ঝুলন্ত লাশ নারায়ণপুরের সারপাড় গ্রামের শ্বশুর বাড়ির সেমিপাকা ঘর থেকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। তার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা কল্পনা (অর্থাৎ হত্যা না আত্মহত্যা) চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে নিহত জেসমিনের ভাসুর লিটনসহ এলাকার প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে বাবু খানের বুদ্ধি পরামর্শে ত্বরিৎ একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয় বলে জানান নিহতের পরিবার। এদিকে জেসমিনের লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে কয়েক লাখ টাকা চিকিৎসকের সাথে বিনিময় হয়েছে বলেও তারা জানান।
হত্যা মামলার বাদী জানান, তার মেয়ে জেসমিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে লাশের পূর্ণ ময়না তদন্ত করলেই প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। জেসমিনের পরিবার এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
