বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বিদ্যা অর্চনায় দেবী সরস্বতি পূঁজা রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। পূজার পরদিন ঐতিহ্যগত ভাবেই প্রমিতাসহকারে শোভাযাত্রার রীতি থাকেলেও এবছর সারাদেশে রাজনৈতিক অস্তিরতার কারনে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এতে পূজারীদের আনন্দের মাঝে কিছুটা মম্মাহত। আজ সকাল থেকেই মন্ডপে মন্ডপে শঙ্খ, বাজনা ও আরতীর মধ্য দিয়ে ভক্তবৃন্দ দেবী সরস্বতীর অর্চনায় পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ করবেন। বিকেলে থেকে মধ্যরাত অবদি ভক্ত ও দর্শনার্থীরা পূজা মন্ডপ ও মন্দির ঘুরে দেবী দর্শণ করবেন।
এবছর রাজনৈতিক অস্তিরতার মাঝেও শহরে পূজাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি সকল বয়সী বিদ্যার্থীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। শহরের নতুন বাজারের শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম, গোপাল জিউর আখড়া, কুন্ডের বাড়ী দুর্গা মন্দির, কালী বাড়ি মন্দির, মজুমদার বাড়ি মন্দির, পুরান বাজারের হরিসভা মন্দির ছাড়াও আদালত পাড়া, প্রতাপ সাহা বাড়ী দুর্গা মন্দির, পালপড়া শীতলা মায়েয়র মন্দির, গাঙ্গুলী পাড়া, ঘোষ পাড়া মন্দির, কদমতলা রোড, গুহ বাড়ী দর্গা মন্দির, মির্নাভা পূজা মন্দির, বকুলতলা পূজারী সংঘ, জোড় পুকুর পাড় পূজারী সংঘ, কোড়ালিয়া সাহা বাড়ী মন্দির, কুমিল্লা রোড, হাজী মহসিন রোড, জে এম সেনগুপ্ত রোড, মুন্সেফ পাড়া পূজারী সংঘসহ প্রায় দেড় শতাধিত মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সরস্বতী দেবীর প্রতীমা তৈরীতে প্রতিমা শিল্পীরা নতুন বাজারের গোপাল জিউর আখড়া, কালী বাড়ি মন্দির ও পুরানবাজারের হরিসভা মন্দিরে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে। এখন প্রতীমার মাটির গড়নের কাছ শেষ পর্যায়ে। দু’একদিনের মধ্যেই প্রতীমা রং ও সাজসজ্জা করা হবে পূজারীদের পছন্দ মতো শাড়ী গহনা পড়িয়ে। অন্যদিকে মন্ডগুলোতে পূজারী মহা ব্যাস্ত কি করে সুন্দর ও মনোরম সাজসজ্জা করা যায়। যাতে পূজা দেখতে আসা ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীরা চোখ না ফেরাতে পারে। মন্ডপ সজ্জায় যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে পূজারীরা। শহরের বিভিন্ন মন্দির ও অস্থায় মন্ডপ ছাড়াও চাঁদপুর সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, পুরান বাজার ডিগ্রী কলেচ, বাবুরহাট কলেজ, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গণি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, লেডী প্রতিমা মিত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লেডী দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুরান বাজার মধুসুদন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যার্থীরা সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গতকাল পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন মন্দিরে চলছিলো মৃৎ শিল্পীদের রাত জেগে প্রতিমা শরীরে রংয়ের আঁচড়ের কাজ। এখন পুঁজার জন্য প্রস্তুত প্রতিমা। গতকাল সোমশহর ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মন্দিরে, স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন বাড়ীতে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। পুঁজা উদযাপন করার জন্য নেয়া হয়েছে সব প্রস্তুতি। আলোক সজ্জা, ডেকেরোশন করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। এসব আয়োজনে চাঁদপুরসহ ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে সহযোগিতার জন্য লোকবল যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে।
অপরদিকে পুঁজা উৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পুঁজা উদযাপন কমিটি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের সাথে বেশ কয়েকটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নেতৃবৃন্দকে।
চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার কালীবাড়ি মন্দিরে, গোপাল জিউড় আখরা মন্দির আর পুরাণবাজার হরিসভা মন্দিরে পুঁজার জন্য প্রতিমা তৈরির কাজ করা হয় প্রতিবছর। ফরিদপুরের দু’ জন মৃতশিল্পী জীবন পাল আর গোবিন্দ পাল ১০-১৫জন সহকারী নিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করে থাকেন।
দিবা-রাত্রী সরস্বতি প্রতিমা সাজসজ্জার কাজ করেছেন। জীবন কৃষ্ণপাল গোপাল জিউড় আখরা এবং পুরাণবাজার হরিসভা মন্দিরে নিজেসহ আরো ৬-৭ জন কারিগর নিয়ে প্রায় ৪ শতাধিক সরস্বতি প্রতিমা তৈরির করেছে। এর মধ্যে গোপাল জিউড় আখরা মন্দিরে প্রায় ৩শ’টি প্রতিমা এবং হরিসভা মন্দিরে প্রায় আরো ৮০টির মতো প্রতিমা তৈরি করেছে।

