প্রতিনিধি
ভাগ্য উন্নয়নে বিদেশ গিয়ে ২৬ দিনের মাথায় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে আলমগীর বেপারী (২৪) নামের চাঁদপুরের এক যুবক। কাতার এয়ারপোর্ট এলাকায় ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি।
নিহত আলমগীর চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বেপারী বাড়ির সুলতান বেপারীর ছেলে। কাতার থেকে নিহতের লাশ আনার প্রস্তুতি চলছে বলে পরিবার জানিয়েছে। এখন আলমগীরের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
আলমগীরের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তার বাবা সুলতান বেপারী এলাকায় বিভিন্ন লোকের ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করেন। তার ৩ ছেলে, ২ মেয়ে। অভাব অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চলতো। বড় ছেলে আলমগীরকে ধারদেনা করে ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর কাতার পাঠান। আলমগীরসহ অন্যান্যরা ওইদিন কাতার এয়ারপোর্ট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে কাতারের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আলমগীরের বাবা সুলতান বেপারী জানান, বালিয়ার গুলিশা এলাকার শিমুর মাধ্যমে আলমগীরকে কাতার পাঠানো হয়। শিমুর সঙ্গে কথা ছিল কাতারে আলমগীরকে ফুলের বাগানে কাজ দেবে। সে অনুযায়ী ব্র্যাক ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় ধার দেনা করে ডিসেম্বর মাসের ২৭ তারিখে কাতার পাঠানো হয়। আলমগীরের সঙ্গে একই বাড়ির আরো ২ জন কাতার যায়। কিন্তু আলমগীর কাতারে গিয়ে আমাদের ফোনে জানায় তাকে রাস্তা ক্লিনারের কাজ দিয়েছে।
একমাত্র ভরসা আলমগীরকে হারিয়ে মা কুলছুমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারাচ্ছে। ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে বাবাও মাঝে মাঝে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন।
আলমগীরের লাশ ৩/৪ দিনের মধ্যে আসবে বলে জানা গেছে। শেষবারের মতো দেখার আশায় মা, বাবা, ভাই, বোনসহ আত্মীয়-স্বজনরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন
