স্টাফ রিপোটার ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলা ৪নং রামপুর ইউনিয়নের মধু রোড রেলওয়ে ভবন ও নবর্মিমিত ফ্লাটফর্ম বালু দিয়ে ভরাট করার জন্য কাশেম কনেট্রাকশন ঠিকাদার কোম্পানি কাজ করে। কাজের শুরু থেকে নি¤œমানের ইট, খোয়া, পাথর ও নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মান এবং ফ্লাটফম তৈরি কাজ করতে থাকে। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কাজ শুরু করার পর এলাকাবাাসীর তোপের মুখে ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বেশ কয়েকবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চাঁদপুর লাকসাম রেলপথের সবগুলো রেলওয়ের ভবন ও ফ্লাটফর্মের কাজ সম্পন্ন হলেও মধুরোডের কাজটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। কাজের শিডিউল অনুযায়ী রেলওয়ে ফ্লাটফম ভরাট করার জন্য ঠিকাদার কোম্পানীকে অন্যস্থান থেকে মাটি ও বালু কিনে এনে সেই জায়গায় ফেলে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কাশেম কনেট্রাকশনের ম্যানেজার বাবরের নির্দেশে রেলওয়েল জায়গায় রেললাইনের পাড়ে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ফ্লাটফম ভরাট করার কাজ শুরু করে। এতে করে রেলপথ হুমকীর মুখে পড়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে কাশেম কনেকট্রাশনের লোকজন ও ড্রেজার মালিক দেলোয়ারের সাথে বাকবিতন্ড সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে মধুরোড এলাকার রেলওয়ের ৪৪নম্বর বিজ্রের দক্ষিন পার্শ্বে মতিন বেপারীর বাড়ির সামনে রেললাইনের পাড়ে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করে। গতকাল সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার কারণে পানি বেশি থাকায় রেললাইনের পাড় থেকে ড্রেজাররের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করায় রেলওয়ের ৪৪ নম্বর ব্রিজটি রেলপথ ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ করলে কাশেম কনেকট্রাশনের লোকজন ও ড্রেজার মালিক দোলোয়ার তাদের সাথে হৈচৈ শুরু করে। জানা যায়, রেরওয়ের সম্পত্তি মদু রোড এলাকার বেপারীর বাড়ির রফিক বেপারী কৃষি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে। কাশেম কনেকট্রাকশনের ম্যানেজার বাবর ও সাইড সুভারভাইজার সুমন এবং দেলোয়ারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় অবৈধভাবে রেলওয়ের সম্পত্তি থেকে বালু উত্তোলনের জন্য বলে। এতে করে চাঁদপুর লাকসাম রেলপথে মধুরোড এলাকার রেলপথ ভাঙ্গন আতঙ্কে হুমকীর মুখে পড়েছে। এব্যাপারে ড্রেজার মালিক দেলোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাশেম কনেকট্রাকশনের ম্যানেজার বাবর ও রেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রেলের জায়গা থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে। কারো বাবার সাধ্য নেই কাজ বন্ধ করার। কাশেম কনেকট্রাকশন এর ম্যানেজার জানায় রেলওয়ের জায়গা থেকে মাটি কেটে রেলওয়ের ফ্লাটফম ভরাট করা হচ্ছে। তাতে কোন সমস্যা নেই। রেলকর্তৃপক্ষের নির্দেশে ও তাদের সাথে সমন্বয় করে বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করা হয়েছে। রেলওয়ের এস.এস.এ.ই/কার্য্য কর্মকর্তা লাকসাম রাম নারায়ন ধর জানায় রেললাইনের ১০০ ফিট দূর থেকে বালু উত্তোলনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে রেলের জায়গা থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে নারাজি প্রকাশ করেন। এব্যাপারে ঊধ্বর্তন প্রকশলী ডি.এন চট্টগ্রাম আবিদুর রহমান জানায় রেলওয়ের পাড় থেকে বালু উত্তোলনে বিষয়টি আমার জানা নেয়। তবে তাদেরকে আমরা নির্দেশ দেয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে মধুরোড এলাকার সচেতন জনগণ এর প্রতিবাদ করায় গতকাল বুধবার বিকেলে কাশেম কনেকট্রাশনের লোকজন রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অবৈধ ড্রেজারটি ঘটনাস্থল থেকে তুলে নিয়েছে বলে জানা যায়।

