মোঃ জামাল হোসেনঃ
শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের ফরিদ উদ্দিন বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার মিনু (১৫) একই শ্রেণির ছাত্র তারেক (১৬) উপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছ।
আজ ২০ আগষ্ট দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে। স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে এলাকাবাসি প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। ঘটনার পর স্কুল কতৃপক্ষ অভিযুক্ত ছাত্র তারেককে স্কুলে আটক করে রাখে। এসময় এলাকাবাসি স্কুলে ভাংচুর চালায়। শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে॥ এরপর তারেককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার বিবরনে জানা যায় উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের পন্ডিত বাড়ির প্রবাসি মোহাম্মদ আলীর মেয়ে ফরিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার মিনুকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো তার সহপাঠি সংহাই গ্রামের প্রবাসী আবু তাহেরের ছেলে তারেক। এনিয়ে বিদ্যালয়ে কয়েকবার অভিযোগ করলে তাদের মধ্যে সমঝোতা করে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান জানায়, গতকাল ২০ আগষ্ট তারেকের মা বিদ্যালয়ে আসেন। তার উপস্থিতিতে শারমিনকে ডাকা হলে তিনি বলেন মেয়েটি তো লম্বা আছে। এছাড়া তিনি কোন কিছু জানে না।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে তাদের মাঝে সমঝোতা করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে মধ্যহ্ন বিরতিতে শারমিন ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে যায়। এরপর তাদের বসত ঘরের ফ্যানের সাথে ওড়না পেছিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরিবারের সদস্যরা তার ফাঁস দেওয়া দৃশ্য দেখতে পেয়ে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাঃ মোঃ আঃ মতিন তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
শারমিনের ভাই সাহাব উদ্দিন জানায়, দুপুরে তার বোন কান্না করতে করতে বাড়িতে যায়। তাদের ধারনা তারেক তার কোনকে উত্যক্ত করেছে।
এদিকে এলাকাবাসি জানায়, ইভটিজিং এর কারনে শারমিন আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার দিন সকালে তারেকের মা ও বোন শারমিনকে অপমান করায় রাগ ও ক্ষোভের কারনে শারমিন আত্মহত্যার পথ বেঁেচ নেয়। এব্যাপারে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) দিলদার আজাদ জানান বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে প্রেম ঘটিত কারন থাকতে পারে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানায়, উক্ত বিদ্যালয়ে ইতিপূর্বে ইভটিজিংয়ের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ছাত্রী অপহরন ও ইভটিজিংয়ের কারনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বখাটেদের ২ বছরের শাস্তি ঘোষনা করেন। এরপরও বিদ্যালয়ে ইভটিজিংয়ের ঘটনা বন্ধ না হওয়ায় জনগন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকই জানায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

