চাঁদপুর:
চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কৰে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেনের সভাপ্রধানে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারি বিভিন্ন বিভাগের উপর বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম সোহেল।
জেলা প্রশাসক সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী সরকারি বিভাগগুলোর কাজের অগ্রগতি ও সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের থেকে জানতে চান। কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ দপ্তরের কাজের সারসংক্ষেপ বিবরণ তুলে ধরে। একই সাথে সমস্যাগুলোও তুলে ধরেন। সমস্যা সমাধানে নানা পরামর্শও দেয়া হয়। মৎস্য বিভাগের আলোচনার সময় জেলা প্রশাসক বলেন, এবার নদীতে প্রচুর পরিমাণ জাটকা পাওয়া যাচ্ছে। জেলেরা কেমন যেনো বেপরোয়া হয়ে গেছে। তারা জেল-জরিমানার ঝুঁকি নিয়েও নদীতে নামছে, জাটকা ধরছে। আমরা অভিযান করছি অনবরত। আমার ম্যাজিস্ট্রেট সারারাত নদীতে থাকে। এ পর্যন্ত ৫০ জন জেলে কারাগারে আছে। এবার একটি বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, শহরের বাজার ও আড়তগুলোতে কেনো জাটকা বা ইলিশ মাছ নেই। নদীর ওপারে রাজরাজেশ্বর, ইব্রাহিমপুর এলাকায় অস্থায়ী মাছের আড়ত গড়ে উঠেছে। সেখানেই এবার সবচে’ বেশি জাটকা ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। সেখান থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাটকা যাচ্ছে। ওইসব জায়গায় আমরা সহসা অভিযান চালাবো। জেলা প্রশাসক বলেন, একা পুলিশ, কোস্টগার্ড বা প্রশাসনের পক্ষে জাটকা নিধন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যানবাহন সব কিছুই আমাদের সীমিত। এ সীমিত সংখ্যক জনবল ও সরঞ্জামাদি নিয়ে জেলেদের প্রতিরোধ করে জাটকা রৰা সম্ভব নয়। সামাজিক প্রতিরোধ না হলে এবং সচেতন মানুষগুলো দায়িত্বানুভূতি থেকে এগিয়ে না আসলে জাটকা রৰা করা সম্ভব নয়। সে জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে জাটকা নিধন প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
সভায় যেসব বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয় সেগুলো হচ্ছে- স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি বিভাগ, পরিবার পরিকল্পনা, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, শিৰা প্রকৌশল বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, প্রাথমিক শিৰা বিভাগ, জেলা শিক্ষা অফিস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, খাদ্য বিভাগ, সমাজ সেবা অধিদপ্তরসহ আরো বেশ কিছু সরকারি বিভাগ। এসব বিভাগের কর্মকর্তা তাদের নিজ নিজ দপ্তরের কাজের সারসংৰেপ চিত্র তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে সকলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
