রাখে আল্লাহ্ মারে কে? আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছাই মানুষের জন্ম ও মৃত্যু। তাইতো গলাকাটার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন আলা উদ্দিন আল আজাদ নামের হতাশাগ্রস্ত এক যুবক। বিষাক্ত ঔষধ খেয়ে ও ছুরি দিয়ে নিজের গলা নিজে কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেও বেঁচে যায়। শুধু তাই নয় নিজের স্ত্রীকেও হত্যার চেষ্টা চালায় আজাদ। পাশে ঘুমন্ত স্ত্রীর মাথায় পাথর দিয়ে প্রচন্ড আঘাত করে মারাত্মক যখম করে। রক্তাক্ত ও মুমূর্ষাবস্থা পুলিশের সহযোগিতায় চাঁদপুর সদর হাসপাতাল পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর দীর্ঘদিন মৃত্যু যন্ত্রণায় ভোগে অবশেষে দু’জনই জীবন ফিরে পায়। আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম সর্বস্ব খুঁইয়ে এখন নিরাস, বেকার ও হতাশাগ্রস্ত যুবক আজাদের।
এবার আত্মহত্যা নয় সে এখন অন্যান্যদের মত মুক্তবিহঙ্গে বাঁচতে চায় আবার দাঁড়াতে চায়। নিম্নে তার দেয়া সাক্ষাতকারটি পত্রস্থ করা হল।
আমি হতভাগ্য এক দেউলিয়া সমবায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ায় আমি নিজেও দেউলিয়া হয়ে ব্যক্তি জীবনে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ি। প্রতিষ্ঠানের মোটা অংকের দেনার দায় মাথায় নিয়ে উপায় অন্তর না দেখে অবশেষে বিগত ১৯ আগস্ট-২০১৪ইং তারিখে মহাপাপ যেনেও আমি নিজে আমার গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করি। এমনকি সাথে নিজের স্ত্রীকেও হত্যার চেষ্টা করি। আশংকা জনক অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। নিয়তির খেলায় আর আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমরা দু’জনই প্রাণে বেঁচে যাই। কিন্তু বেঁচে গিয়েও বাঁধে চরম বিপত্তি। চারিদিকে প্রকাশ পায় আমার দেউলিয়াত্বের কথা। উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়ে আমার গ্রাহক তথা পাওনাদার। সবাই মিলে উপায় খুঁজতে থাকেন পাওনা আদায়ের। উপায় হলো আমার পৈত্রিক ঘরভিটিটুকু রেখে, অবশিষ্ট জায়গাটুকু বিক্রি করা এবং আমার মাঠে পড়ে থাকা খেলাপি ঋণ আদায় করে যাই হয় সবাই মিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করা হবে। কিন্তু তা আর হলো না। সময় যতই গড়িয়ে যায়, ক্রমশই গ্রাহকদের পাওনার চাপ দিন দিন বাড়তে থাকে। উপায় না দেখে কিছুসংখ্যক গ্রহককে টাকার পরিবর্তে জমি দিয়ে বা নগদ কিছু আদায় করে প্রায় ২০/২৫ জন গ্রাহক/পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ করি। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে বাকি গ্রাহকরাও ক্ষেপে উঠেন। সবাই নিজেদের পাওনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। এমনকি কিছু সংখ্যক গ্রাহক একত্রিত হয়ে আমার পৈত্রিক অবশিষ্ট ৪ শতকের একখন্ড জমি তারা দখল করে রাখে। পাশাপাশি আছে মামলা-হামলার ঝামেলা, হুমকি-ধমকিসহ নানান চাপ। কিন্তু আমি বা আমার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে মোটেও সম্ভব নয় এই দেনা পরিশোধ করার। কিন্তু পরিশোধ না করে বেঁচে কিংবা টিকে থাকারও কোন উপায় নেই। কেননা আমার পক্ষে কোন ক্রমেই সম্ভব নয় আত্মগোপনে থাকা, কিংবা পালিয়ে বেড়ানো, এও সম্ভব নয় আমার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা।
কেননা আমার মনে এতটুকু জোর আছে, আমিতো গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করিনি। আমি লোকসান করেছি, দেউলিয়া হয়েছি। আমিতো আমার গ্রাহক/পাওনাদারদের টাকা ফেরৎ দিতে চাই। কিন্তু আমার যে, দেয়ার সামর্থ নেই। আর সেখানেই বেঁধেছে বিপত্তি। বর্তমানেও আমার দেনার পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। বাকি গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬০/৭০ জন। কিন্তু আমার পৈত্রিক অবশিষ্ট যে ৪ শতক ভূমি আছে তার বর্তমান বাজার মূল্য ২০/২২ লাখ টাকা। আর আমার মাঠে পড়ে থাকা খেলাপি ঋণের পাওনা টাকার পরিমাণ প্রায় ৩০/৪০ লাখ টাকা। যাহা আদায় করাও আমার পক্ষে দুরূহ। কিন্তু সময় যতই গড়িয়ে যাচ্ছে গ্রাহকদের মনে ততই ক্ষোভ জন্মাচ্ছে। আবার অনেক পরিবারে টাকা না পেয়ে জ্বলছে অশান্তির আগুন। আর সেই আগুনের তাপে আমি ও আমার পরিবারও জ্বলছি। বছরখানেক ধরে আমি সম্পূর্ণ বেকারত্ব জীবন-যাপন করছি। আমার চারিদিকে শুধু অন্ধকার, কোথায়ও বিন্দুমাত্র আলোর হাতছানি নেই। একদিকে মাথার উপর দেনার বিশাল বোঝা, অন্যদিকে আপন সংসারের ঘানি, কোনটাই যে, আর আমি বইতে পারছি না। এমতাবস্তায় জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই আমার জন্য দূরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি দিশেহারা, পথ খুঁজে পাচ্ছি না, কিভাবে হবে এর সমাধান? আমিতো চাই আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও আমার গ্রাহকদেরকে তাদের পাওনা পরিশোধ করতে, কিংবা আমার শরীরের অঙ্গ-পতঙ্গ বিক্রি করে দিতে। অনেকে বলছেন মৃত্যু কোন সমাধান নয়। তাহলে সমাধান কোথায়? আমি আমার পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই। কি করে সম্ভব। শ্রদ্ধেয় পাঠক আপনাদের নিকট এটাই আমার প্রশ্ন। প্রকাশ, দেউলিয়াত্ব প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে মঠখোলা ওয়াপদা গেইটস্থ বন্ধুজন বহুমূখি সমবায় সমিতি লিঃ। গ্রাহকদেরকে এফডিআর বিপরীতে মাসিক অতিরিক্ত হারে মুনাফা প্রদান, খেলাপী ঋণ আদায়ে ব্যর্থতা এবং লাভজনক কোন প্রকল্প গ্রহণ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের ফাঁদে পড়ে।
শিরোনাম:
সোমবার , ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

