
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুরে গৃহবধু অপহরনের ঘটনায় মুল হোতাসহ ২ জনকে আটক করার ৪৩ ঘন্টা পর অপহিৃতা গৃহবধু রেশমা বেগম(১৭)কে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ১১ টায় ঢাকা থেকে অপহনকারির সহযোগিরা তাকে চাঁদপুরের লঞ্চে উঠিয়ে দেওয়ার পর রেশমা বেগম মায়ের খোঁজে চাঁদপুর মডেল থানা আসায় রহস্য উৎঘাটন হয়। অপহিৃতা গৃহবধু রেশমি বেগম জানায়, তার স্বামী সুমন কয়েক মাস যাবত ঢাকায় গাঁ ডাকা দেওয়ার পর তাকে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় দেবর রিপন তার মোবাইল থেকে ফোন করে স্বামীর খোঁজ মিলেছে বলে মতলব যাওয়ার জন্য বলে। ভাড়ার টাকা নেই বললে রিপন অন্য জায়গা থেকে ০১৭৬৬৬৮২১৫৮ নাম্বার থেকে চাঁদপুর শহরের যমুনা রোডের মাথায় নিউ মোবাইলের দোকানের মালিক কামাল হোসেনের বিকাশ ০১৮৫৩৩৩৯৮৯৫ নাম্বারে মঙ্গলবার সকাল ১১ টা ১৮ মিনিটে ৫১০ টাকা পাঠায়। সেই টাকা নিয়ে গৃহবধু রেশমা বেগম দেবর কিরনের কথামত মতলব হাসপাতালের সামনে চলে যায়। সেখানে গেলে ২ অপহরনকারী এসে রেশমাকে তার দেবরের কাছে নিয়ে যাবার কথা বলে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে তাকে অচেতন করে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন করে। তাদের কথামত স্বামীর মোবাইলে ফোন করে বন্ধুর বাসায় রয়েছি এই কথা বলতে বলে। সেই কথা মোবাইলে রেকট করে তারা নাটক সাজিয়ে নিজেরা বাঁচার জন্য তা থানায় এসে পুলিশকে শুনায়। এদিকে গৃহবধু রেশমা অপহরনের পর বুধবার সকাল ১১ টায় মডেল থানার এসআই সেলিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদ্রাসা রেডের মিজি বাড়ির ভারাটিয়া বাসা অভিযান চালিয়ে দেবর রিপনের শ্বশুর নান্নু গাজি(৫৫) শাশুড়ি লিপি বেগম(৩৫) ও শালি জান্নাত আক্তার(১৫)কে আটক করে। তাদেরকে আটক করার খবর শুনে গৃহবধু রেশমা বেগমের দেবর রিপন ও স্বামী সুমন চাঁদপুর মডেল থানায় আসে। এসময় তাদেরকে পুলিশ আটক করে। তারা আটকের পর তাদের সহযোগিদের ফোন করে রেশমা বেগমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলে। প্রায় ৪৩ ঘন্টা পর অপহিৃতা গৃহবধু রেশমি বেগম(১৭) মুক্ত করে দেওয়া পর গতকাল বৃহস্পতিবার ৯ টায় ঢাকা থেকে অপহনকারির সহযোগিরা তাকে লঞ্চে উঠিয়ে দিলে সে চাঁদপুরের আসে দুপুর ১টায়। পুলিশ ঘটনার সত্যাতা যাচাই করতে যমুনা রোডে নিউ মোবাইলের দোকানের মালিক কামাল হোসেনের বিকাশের মোবাইলে টাকা পাঠানোর ম্যাসেজ দেখতে পেয়ে এ ঘটনা উৎঘাটন হয়। উল্ল্যেখ্য, শহরের বড়স্টেশন যমুনা রোডের রফিক চকিদারের মেয়ে রেশমা আক্তারের সাথে দেড় বছর পূর্বে সুমন মোল্লার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুমন স্ত্রীকে রেখে ঢাকায় চলে যায়। গত সোমবার সকালে দেবর রিপন মোবাইলে রেশমা আক্তারকে ফোন করে বড় ভাই সুমনের খোঁজ মিলেছে বলে তাকে মতলব নিয়ে যায়। পরে রেশমকে অপহরন চক্রের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে আটকে রাখে। সেই খবর পেয়ে রেশমার মা সাহিদা বাদি হয়ে মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
শিরোনাম:
সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
