
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডের ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভুল অপারেশনের কারনে গৃহবধু ও নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাঙ্গের ছাতার মতো বৃদ্ধি পাওয়া চাঁদপুরের প্রাইভেট হাসপাতালগুলো যেনো রোগী মারার প্রতিযোগীতায় নেমেছেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখতে তড়িগড়ি অপারেশন ও অনভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা সেবা প্রদান করায় প্রতিদিন ভুল চিকিৎসার কারনে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাসপাতালের মালিক ও সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ডাক্তাররা দোরঝাপ শুরু করে দিয়েছে।
জানা গেছে, শহরের যমুনা রোডের টিলা বাড়ির সাদেক আলীর স্ত্রী ৬ সন্তানের জননী জিনু বেগম চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে শিশু প্রসবের জন্য চিকিৎসা নিতে আসেন। এসময় রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুমিল্লা রেফার করে। সুযোগ সন্ধানী দালাল চক্ররা রোগীকে শহরের হাজী মহসিন রোডের ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। শনিবার রাতে ষোলঘর সদর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী ডাক্তার তানিয়া অধিক মুনাফার আশায় গুরুতর অবস্থা দেখেও কৌশলে রোগীর কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে অপারেশনের কাজ শুরু করে। অপরাশন কালিন সময়ে সিজার করে টানা হেচরা করে বাচ্চা বের করায় নবজাতক শিশুটি মারা যায়। এসময় টানা হেচরার কারনে অধিক রক্তক্ষরনে জিনু বেগমও অপারেশন থিয়েটারে মারা যায়।ডাক্তার তানিয়া কৌশলে রোগী বাচানোর কথা বলে তড়িগড়ি করে কাউকে বুঝতে না দিয়ে মৃত রোগীকে তড়িগড়ি করে বিসমিল্লাহ নামক এ্যাম্বুল্যান্স যোগে কুমিল্লা পাঠায়। কিছুদূর যাওয়ার পর রোগী মৃত্য বলে বুঝতে পেরে গাড়ি ঘুড়িয়ে চাঁদপুর চলে আসে। রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে হৈ চৈই শুরু করলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ দৃুত গেইট আটকে দিয়ে তালা মেরে দেয়।
এ ব্যপারে ডাক্তার তানিয়া জানায়, অতিরিক্ত রক্ত খরন ও রোগীর অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাকে বাচাতে রোগীর স্বজনদের কথামতো ক্রিসেন্ট হাসপাতালে অপারেশন করানো হয়। নবজাতক মারা গেলে জিনু বেগমকে মুমূর্ষ অবস্থায় কুমিল্লা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান।
ডাক্তারের অযোগ্যতা ও ব্যবসায়িক চিন্তায় আরো কত রোগীর জিবন দিতে হবে এমন হাজারো প্রশ্ন এখন জনমনে।
