
শওকত আলী॥
চাঁদপুরে ঈদের ৯দিন পরও দিনের চাইতে রাতের বেলা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিটি লঞ্চ ধারণ ক্ষমতার চাইতে ২-৩গুন বেশী যাত্রী নিয়ে রাতের অন্ধকারে চাঁদপুর নৌ-সীমানা থেকে পাড়ি দিয়ে পদ্মা-মেঘনা, ধলশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছে। এতে করে যে কোন মূহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দিনের বেলা লঞ্চগুলো কর্মমূখী অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপারের সময় দূর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা দিনের আলোতে সাঁতরিয়ে নদী পারি দিয়ে বা অন্য কোন মাধ্যমে জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও রাতের আঁধারে দূর্ঘটনায় পড়লে জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে সচেতন মহল মন্তব করেছেন। এ অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার জন্য জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, নৌ-পুলিশ, কোষ্ট গার্ড ও ঈদ উপলক্ষে দায়িত্বরত স্কাউট বাহিনীর সদস্যরা দেখেও না দেখার বান করে চলছে। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করায় লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা অভিমুখে পাড়ি জমাচ্ছে।
চাঁদপুর-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো ঈদ শেষে কর্মস্থলের অভিমুখে যাওয়া যাত্রীদের জীবনের দিক বিবেচনা না করে ধারণ ক্ষমতার বাহিরে ২/৩ গুনেরও বেশী যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ত্যাগ করে ঢাকা অভিমুখে পাড়ি জমাচ্ছে। যাত্রীরা গন্তব্যে যাওয়ার জন্য জীবনের দিক বিবেচনা না করেই হুড়োহুড়ি করেই রাতের বেলায়ও লঞ্চে উঠছে। বুধবার রাতে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে।
বুধবার রাতে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার যাত্রী নৌ-টার্মিনালে অবস্থান করছে। লঞ্চগুলো টার্মিনালে ভিড়ার সাথে সাথেই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে লঞ্চে উঠছে বসার জায়গা দখল করার জন্য। যাত্রীরা প্রথম- দ্বিতীয়- তৃতীয় শ্রেণীর আসন ও সংরক্ষিত কেবিন না পেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চের নিচের ডেকে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্লোরে চাদর বিছিয়ে আসন দখল করতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে লঞ্চের ভিতরে তিল ধারনের জায়গা পর্যন্ত নেই। কোন যাত্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে যাত্রীদেরকে পায়ে মাড়িয়ে যেতে হয়। প্রতিটি লঞ্চে ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার বা তার নিচে হলেও লঞ্চগুলো প্রায় ৩ গুনেরও বেশী যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট থেকে গতকাল রাতে এমভি মিতালী-৪, এমভি ইমাম হাসান- ১ ও ২, এমভি জমজম-১, তাকওয়া, এমভি ময়ুর-২ ও ৭ সহ ৮-১০টি লঞ্চ উপচে পড়া যাত্রী নিয়ে রাতের আঁধারে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল ত্যাগ করতে দেখা যায়। যাত্রীদের হুড়োহুড়ি করে উঠতে দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন এ লঞ্চটিতে না উঠলে তাদের জন্য কোন লঞ্চই আর নৌ-টার্মিনালে আসবে না। তাই তারা জীবনের দিক বিবেচনা না করে জীবন বাজি রেখে লঞ্চে উঠছে।
প্রতিটি লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপকালে তারা জানান, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী লঞ্চে না উঠার জন্য বললেও যাত্রীরা তা শুনছে না। বাধ্য হয়ে লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রীর কারনে নির্ধারিত সময়ের ৩০-৪০ মিনিট পূর্বে ঘাট ত্যাগ করতে হচ্ছে।
পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন শেষে কর্মমূখী মানুষ তাদের কাজে যোগ দিতে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য শরীয়তপুর জেলার চরাঞ্চাল, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী জেলাসহ আশপাশের জেলার লোকজন যাতায়াতের সহজ পথ নৌ-পথ হওয়ায় বেশীরভাগ মানুষই লঞ্চে যাতায়াত করে। এই সুযোগে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেমত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপুর্ণ যাত্রা করে যাচ্ছে।
লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার জানায়, ঈদের পরে তেমন ভিড় ছিলো না। হঠাৎ যাত্রী সংখ্যা বেড়ে গেছে। যাত্রীদের না উঠার জন্য নিশেধ করলেও তারা জোরপূর্বক লঞ্চে উঠছে। এই কারণে নির্দিষ্ট যাত্রীর চাইতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছে।
ঈগল, ময়ুর, বোগদাদীয়া, ইমাম হাসান সহ কয়েকটি লঞ্চের চাঁদপুর ঘাটের দায়িত্বরত মালিক প্রতিনিধি আলী আজগর সরকার জানান, যাত্রীরা ইচ্ছে করেই ঈদের পরে না গিয়ে হঠাৎ করে এখন ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। লঞ্চে না উঠার জন্য বারণ করলেও তাদেরকে থামিয়ে রাখা যায় না। তার জোড় করে লঞ্চে উঠে। যার ফলে লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাট ত্যাগ করছে।
চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোস্তফিজুর রহমান জানান, স্বাভাবিকের চাইতে বেশী যাত্রী যাচ্ছে। ওভারলোডিংও হচ্ছে। সেটি সহনিয় পর্যায়ে রয়েছে। সিডিউল মোতাবেক লঞ্চ না আসায় সিমিত লঞ্চ হওয়ায় আমরা অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সুযোগ দিচ্ছি। গত ঈদুল ফিতরে কয়েকটি লঞ্চকে জরিমানা করা হয়েছিলো। বর্তমান ঈদুল আযহায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন অপরাধ হলেও লঞ্চ সিমিত হওয়ায় জরিমানা করা হচ্ছে না।
