মোঃ জামাল হোসেন ঃ
শাহ্রাস্তির আয়নাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও দাতা সদস্য নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখ নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি ডাঃ মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন রিপন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর ওই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর প্রত্যক্ষ ভোটে ২জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। এতে ডাঃ মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন রিপন, বিল্লাল হোসেন, আয়েশা বেগম ও সামছুন্নাহারকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৭ অক্টোবর একটি সভার মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের আহ্বান জানান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাবুদ্দিন। ওই সভায় সভাপতি পদে ডাঃ মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন রিপন ও খোরশেদ আলমের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওই সময় অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে দাতা সদস্য তৈরী করে সভাপতি পদে খোরশেদ আলমের নাম প্রস্তাব আনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সভা ত্যাগ করেন অপর প্রার্থী রিপন। পরবর্তীতে অনিয়মের ওই বিষয় সহ স্বঘোষিত কমিটি বাতিলের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী ডাঃ মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন রিপন জানান, অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হলেও দাতা সদস্য ও সভাপতি পদে নির্বাচনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশকৃত কোন নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাফায়েত হোসেন ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম সহ কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে চা দোকানে বসে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে মোঃ খোরশেদ আলমকে দাতা সদস্য এবং পরবর্তীতে জোগসাজসে সভাপতি মনোনীত করেন। যা সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থী।
তাছাড়া খোরশেদ আলমের পিতা আবু তাহের ও বড় ভাই আবদুল মান্নান জীবিতাবস্থায় কিভাবে তাদের ডিঙ্গিয়ে তাকে দাতা সদস্য মনোনীত করে বিষয়টি অনেকটা হাস্যকর মনে হয়। তিনি আরো জানান, খোরশেদ আলম একজন ব্যবসায়ি এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করেন। ব্যবসায়িক জুট ঝামেলা মিটিয়ে গ্রামে এসে বিদ্যালয়ের সার্বিক কাজের দেখবাল কিভাবে করবেন তা নিয়ে অভিভাবক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে দলীয় বিবেচনায় প্রতিনিধি মনোনীত হলেও যাকে সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে তিনি বিরোধি রাজনীতির সাথে জড়িত। এক শ্রেণির লোক বিদ্যালয়ের স্বার্থ বিবেচনা না করে নিজের স্বার্থে ওই ব্যক্তিকে সভাপতি মনোনীত করেন।
স্থানীয় মোঃ মোশারফ হোসেন মুশু জানান, আমরা স্থানীয়রা মিলেমিশে দাতা সদস্য ও সভাপতি নির্বাচিত করেছি। এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হিলারির পক্ষে বিশ^ মিডিয়া একযোগে কাজ করেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আপনারা পত্রিকায় লিখে কি ফল হবে আমার বোধগম্য নয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাবুদ্দিন জানান, দাতা সদস্য নির্বাচনে কোন অনিয়ম হয়নি। আমাকে খোরশেদ আলমের পক্ষ থেকে তার অভিভাবকদের সম্মতি স্বরুপ একটি লিখিত দেয়া হয়েছে। সভাপতি নির্বাচনে ২ জন প্রার্থী থাকলেও সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন প্রার্থী ডাঃ মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন রিপন সভা ত্যাগ করে চলে যান। যার কারণে তার কাছ থেকে কোন স্বাক্ষর বা প্রত্যাহারের লিখিত রাখা সম্ভব হয়নি। অন্যকোন প্রার্থী না থাকায় আমি চুড়ান্ত কমিটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে গত ৯ নভেম্বর পাঠিয়ে দেই।
এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম (চঃ দাঃ) জানান, আমি দাতা সদস্য ও সভাপতি নির্বাচনে অনিয়মের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে চুড়ান্ত কমিটি সংক্রান্ত বিদ্যালয় হতে কোন কাগজ পাইনি। অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিরোনাম:
বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
