রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ
শাহরাস্তিতে পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার মোঃ আনোয়ার উল্লাহকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ২০ দিনেও কোনো আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি হত্যার কোনো রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে এমন নৃসংস হত্যার ঘটনার কোনো রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে পরিবার। অবশ্য পুলিশ বলছে ক্লুবিহীন খুনের রহস্য বের করতে একটু সময় লাগলেও দ্রতই এ ব্যাপারে খবর আসতে পারে।
জানা যায়, আনোয়ার স্থাানীয় নাওড়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সহকারী (বর্তমানে উপসহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার) হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে ১৯৯১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণ করার পরে সাধারণ দুস্থ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। স্থানীয় গরীব দুস্থদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দিতেন। কেউ অসুস্থ হলেই দিনে কী রাতে সব সময়ই ছুটে যেতেন। এবং চিকিৎসা সেবা দিতেন। চাকুরী থেকে অবসরের দশ তথা ১৬ বছর আগে যখন স্ত্রী মমতাজ বেগম মারা যান। তিনি আরো একা হয়ে যান। কারণ এর আগেই তিন ছেলে প্রতিষ্ঠিত ও দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। তারা সবাই সবার মতো করে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সবশেষ ইচ্ছা এবং পরিস্থিতি তাঁকে বাধ্য করে সমাজের মানুষের আরো কাছে পৌছে যাবার। আর সে সুযোগ ইর্ষণীয় ভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেবার উদ্দেশ্যে বের হয়ে খুন হন এ পল্লী চিকিৎসক। সাধারণ মানুষকে বিনা মুল্যে পরামর্শ ও ওষুধ দিতেন এমনটাই জানলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কান্নামাখা কণ্ঠে স্থানীয় শাহজাহান মিয়া, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ মোস্তফাসহ বেশ কয়েকজন জানান, এমন একজন ভালো মানুষকে গভীর রাতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশেই নিজস্ব র্ফামেসীর সামনে তাকে গলা কেটে নৃসংস ভাবে হত্যা করা হবে এটা আমরা কেউ মানতে পারছি না। জীবনের শেষ বয়সেও যে মানুষটি সমাজের সেবা করে যাচ্ছিলেন, তাকে এভাবে হত্যা সত্যিই অমানবিক। খুনের ঘটনায় আনোয়ার উল্লাহ এর ছোটে ছেলে মোশারফ হোসেন শাহরাস্তি থানায় মামলা করেন। এলাকাবাসী কয়েক দফায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পুলিশ কোনো আসামী বা কোনো রহস্য খুঁজে বের করতে না পারায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্বজনদের। আনোয়ারের মেঝ ছেলে ডাঃ মিজানুর রহমান ও ছেলের বউ নাজমা বেগম জানান, আমরা কিছুতেই এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। গত ১৫ দিনে পুলিশ কি করলো তাও বুঝতে পারছি না। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব আসামিদের চিহ্নিত শেষে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। পুলিশও তদন্ত করে স্থানীয় ভাবে জেনেছে আনোয়ার উল্লাহ একজন ভালো মানুষ হিসেবে সর্বজনবিদিত। কারো সাথে ভূমি বা পেশা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিলো না। ইস্যূহীন এ হত্যাকান্ড তদন্ত খুব সর্তকতার সাহিত করা হচ্ছে বলে জানান ওসি মোঃ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা খুনের মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। আশা রাখছি খুব শীঘ্রই একটা ভালো ফলাফল পাবো। ২৭ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা রোগী সেজে নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা চিকিৎসক আনোয়ার উল্লাকে ডেকে চেম্বারে এনে তার র্ফামেসীর সামনে গলা কেটে হত্যা করে। এমন খুন স্থানীয়দের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। কারণ হত্যার ধরণ দেখে অনুমেয় হচ্ছে এটি জঙ্গি কিংবা ভিন্ন কোনো পেশাদার খুনি কৃর্তক সম্পন্ন হয়েছে। তাই বিষয়টির প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।
