
মিজান লিটন ঃ
গত কয়েকদিন পূর্বের টানা বৃষ্টিতে চাঁদপুর জেলার অধিকাংশ ব্রিকফিল্ডগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ব্রিকফিল্ডের রোদে শুকাতে দেয়া কাঁচা ইটগুলো বৃষ্টিতে কারণে ভেঙ্গে ও গলে নষ্ট হয়ে যায়। যার কারনে ক্ষতির মুখে পড়ে ইটভাটার ইটের টেকগুলোও। এতে করে ইট ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার ইট নষ্ট হয়ে যায়।
চাঁদপুর সদরের ব্রিক ফিল্ডগুলো ঘুরে দেখা যায়, পানিতে কাঁচা ইট গলে মাটির সাথে মিশে গেছে। ইটের টেকগুলোতে থাকা কাঁচা ইটগুলোও বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক আকৃতি হারিয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে কয়েক লাখ ইট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টিতে প্রতিটি ইটভাটাই কম বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষত যাদের কাঁচা ইট রোদে শুকাতে দেয়া হয়েছিলো তারাই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে দেখেই গত কয়েকদিনের তৈরি করা কাঁচা ইট হঠাৎ বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদরের মৈশাদী এলাকার সি.বি.এফ, এ.এম.এস ব্রিক ফিল্ডের মালিক আব্দুল মান্নান শেখ, এ.এইচ.বি’র মালিক তুষার খান ও বি.বি.এম’র মালিক ফারুক খানের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, ২০০৭ সালের পরে আমরা ব্রিকফিল্ডের মালিকরা এমন বড় ধরনের ক্ষতির স্বিকার কখনো হয়নি এবং প্রাকৃতিক এমন দূর্যোগ এ সময়ে কখনো দেখিনি। আমাদের ফিল্ডগুলোতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ লক্ষ কাচা ইট নষ্ট হয়ে যায়। একেক ফিল্ডের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতি আমরা সহসায় পুষিয়ে উঠতে পারবোনা। এবার প্রাকৃতিক কারনে আমাদের ইট ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতির স্বিকার হতে হয়েছে।
ইট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব শেখ আব্দুর রশিদ জানান, গত কয়েকদিন পূর্বের বৃষ্টিতে আমরা ফিল্ড মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। প্রতিটি ফিল্ডের কমপক্ষে ৪-৫ লক্ষ কাচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বহু টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি জেলার বিভিন্ন ব্রিক ফিল্ডের খোঁজ-খবর নিয়েছি। প্রতিটি ব্রিক ফিল্ডের একই অবস্থা।
আমরা এ বছর ইট ব্যবসায়ীরা বছরের শুরুতে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলাম। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। বিগত ৮/১০ বছরেও এ মৌসুমে এ ধরণের বৃষ্টি কখনো দেখিনি। কারন এ সময়টাই আমাদের ব্রিকফিল্ডগুলোর ইট তৈরীর ভরা মৌসুম।
