রেলওয়ের ক্লাব রোডে চলাচলের রাস্তার উপর অবৈধ দোকান নির্মাণ ॥ এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা
চাঁদপুর পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা ॥ সংবাদকর্মীদের সাথে অসাধু আচরণ স্টাফ রিপোর্টার ঃ চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে ক্লাবের পিছনে চলাচলের রাস্তার উপর অবৈধ দোকান নির্মাণ করায় সাধারণ জনগণ ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে এ রুট দিয়ে প্রতিদিন ট্রেন, বাস ও লঞ্চ যাত্রীদের রিক্সা দিয়ে ও পায়ে হেটে যাতাযাতের সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। গতকাল সোমবার বিকেলে ক্লাব রোডের রাস্তা ও ড্রেনের উপর ঐ এলাকার জনৈক হাশেম তালুকদার অবৈধ দোকান ও ছাউনী নির্মাণ করে। এলাকাবাসীর মধ্যে এ অবৈধ দোকান ঘর উচ্ছেদ নিয়ে মারাত্মক চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকার জনপ্রতিনিধি মহিলা কাউন্সিলর, কমিউনিটি পুলিশ কর্মকর্তা ও সচেতন এলাকাবাসী এ অবৈধ দোকান উচ্ছেদের ব্যাপারে পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। এ অবৈধ দোকান ঘর ও ছাউনীর ছবি তুলতে গেলে সংবাদকর্মীদের সাথে হাশেম তালুকদার অশালীন আচরণ করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শহরের ব্যস্ততম ও ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা রেলওয়ে ক্লাব রোড দিয়ে প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ, দক্ষিণ, পূর্ব অঞ্চলীয় ও ঢাকা চট্টগ্রামের অসংখ্য লঞ্চ, ট্রেন ও স্টীমারে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ এখান দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। যার ফলে এ রাস্তাটি অতি গুরুত্ব বহন করে চলছে। এখানে সোমবার বিকেলে এলাকাবাসী ও কমিউনিটি পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এলাকার চিহ্নিত গাঁজা সেবনকারী ও বিক্রেতা আবুল হাশেম তালুকদার ও তার ছেলে আবুল কালাম রাস্তার উপর দোকান নির্মাণ ও ১৫/২০ হাত লম্ব টিনের চালা রাস্তার উপর দিয়ে ক্রেতাদের বসার জন্য ছাউনী নির্মাণ করে। রাস্তার উপর দোকান ও ছাউনী দেওয়ায় পথচারী ও রিক্সা চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাটি এমনিতেই সরু হওয়ায় দুটি রিক্সা চলাচল করতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তার উপর আবার দোকান ও ছাউনী নির্মাণ করায় একটি রিক্সা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল এবং পথচারীদের মারাত্মক সমস্যা ভোগ করতে হচ্ছে। এর পূর্বে দোকান ঘর নির্মাণকারী হাশেম তালুকদার একই স্থানে একটি দোকান ঘর নির্মাণ করে মাদক ব্যবসা করায় চাঁদপুর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার মনির আহমেদ কমিউনিটি পুলিশের দায়িত্বে থাকায় এলাকা বাসীর অনুরোধে দোকানটি বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে পৌর মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে জনগণের বাধা উপেক্ষা করে পুনরায় সে দোকানটি খুলে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার উপর ও পাশে দোকান নির্মাণ করায় যেমন পথচারীদের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়ে চলছে। তার উপর এলাকার পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ হয়ে এলাকায় বৃষ্টি হলে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়ে এলাকাবাসী মারাত্মক দূর্ভোগ পৌহাতে হবে। এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি পুলিশ কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্থানের মানুষের যাতায়াতের চলার স্বার্থে এ দোকান ও ছাউনী উচ্ছেদ করা একান্ত প্রয়োজন বলে পৌর মেয়রের কাছে জোর দাবী জানান। এ দোকানের পাশেই রয়েছে হাশেম তালুকদারের বাসা। বিগত দিনে ডিবি পুলিশ ও চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাশেম তালুকদারের স্ত্রী মনা বেগম, ছেলে হারুন তালুকদার তার স্ত্রীকে মাদকসহ আটক হয়ে কারা ভোগ করে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। যা চাঁদপুর মডেল থানায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। গত শুক্রবার হাশেম তালুকদারের জামাতা আনোয়ার হোসেন খানকে গাঁজাসহ আটক করেন মডেল থানার এসআই রাশেদুজ্জামান। এর পূর্বে তার মেয়ে শিল্পী বেগম মাদকসহ আটক হয়ে বর্তমানে শিল্পী ও তার স্বামী আনোয়ার হোসেন খান জেলা কারাগারে রয়েছে। সচেতন মহলের মতে এলাকাবাসী ও শত শত বিভিন্ন প্রকার যাত্রী সাধারণের স্বার্থে অবৈধ দোকান ও ছাউনীটি উচ্ছেদসহ এ পরিবারটিকে এ এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিলে এলাকার পরিবেশ ফিরে আসবে এবং এলাকাবাসী স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে।