শওকত আলী ঃ
চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে জেলেরা কাঙ্খিত পাচ্ছে না। বরিশাল, ভোলা, চরফ্যাশান ও নোয়াখালী রামগতি, আলেকজেন্ডার থেকে চাঁদপুর ইলিশের আড়ৎগুলোতে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক মন ইলিশ আমদানী হচ্ছে। রমজান মাসের পূর্বে প্রতিদিন এসব আড়ৎগুলোতে ২/৩’শ মন ইলিশ আমদানি হতো। ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের এখন বর মৌসুম হওয়ার পর বিগত বছরগুলোতে এসময় জেলেরা ইলিশ শূণ্য অবস্থায় নদী থেকে খালি হাতে বাড়িতে আসতে হতো। সে তুলনায় এ বছর রমজানের পূর্বে প্রচুর ইলিশ আমদানী হয়েছে। গতকাল সোমবার চাঁদপুর বড় ষ্টেশন মাছঘাটে গিয়ে জানা যায়, এখন মৎস্য বণিক সমিতির আওতাভুক্ত ৫০টি আড়ৎদের মধ্যে যে কয়টি আড়ৎদে ইলিশ আমদানী হচ্ছে, তার পরিমাণ হবে প্রতিদিন প্রায় ১ শতাধিক মন। এ সব ইলিশ মৎস্য আড়ৎ থেকে জেলার যেসব উপজেলা চাহিদা রয়েছে, সে সব উপজেলায় ও চাঁদপুর শহরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ও এসব ইলিশ সরবরাহ করা হয়। চাঁদপুর জেলা থেকে ঢাকা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, মৌলভী বাজারসহ উল্লেখ্যযোগ্য জেলাগুলোতে এসব আমদানী হওয়া ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর এ সময় ইলিশের দাম অনেক কম বলে মৎস্য আড়ৎদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান। জেলেরা জানান, জেলেরা নদীতে দীর্ঘদিন পর ইলিশ ধরতে পারায় অনেক আনন্দিত। তবে তাদের নদীতে ইলিশ ধরতে গিয়ে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, তাকে তাদের খরচ দিয়ে পৌছাচ্ছে না। তার মধ্যে আবার ইলিশের দাম তুলনা মূলকভাবে কম। বড় ষ্টেশন মাছ ঘাটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়ৎদার জানান, কতিপয় অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়ৎদার বার্মা থেকে ইদানিং কালে বার্মার ইলিশ আমদানি করে দেশি ইলিশের দামে বা একটু কম দামে বিক্রি করায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে। এছাড়া দেশি ইলিশ বিক্রেতারা বার্মা ইলিশের দামে দেশি ইলিশ বিক্রি করতে না পেরে হতাশা গ্রস্থ হয়ে নিজেরা ঠকতে হচ্ছে। তারা যে পরিমাণ ইলিশ বিক্রি করতে পারার কথা সে পরিমাণ ইলিশ বিক্রি করতে না পেরে বসবাসে দেখা ছাড়া উপায় থাকছে না। সরজমিনে সোমবার বিকেলে চাঁদপুর মৎস্য আড়ৎগুলোতে গিয়ে আড়ৎদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৭৫০ টাকা কেজি ও প্রতি মণ ৭৫ হাজার টাকায় মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ৭’শ থেকে ৮’শ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ৯’শ টাকা প্রতি মণ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫/৬’শ গ্রাম ইলিশ কেজি ৭’শ টাকা ধরে প্রতি মণ ২৮ হাজার টাকা মণ ধরে বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে মাছ ঘাটের সেকান্তর কোম্পানীর আড়ৎদের দায়িত্ব থাকা বাদল রাঢ়ী জানান, প্রতিদিন এখানে গড়ে ১ শতাধিক মণ ইলিশ আমদানি হচ্ছে। প্রতি আড়ৎতে ৮/১০ মণ করে ইলিশ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে। তবে ইলিশের দাম অন্য বছরের তুলনায় কম। চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনায় তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। এসব ইলিশ দক্ষিণ অঞ্চলের ডালচর, সামরাজ, দৌলতখা, রাঙাবালি থেকে আসছে। এছাড়া নোয়াখালী আলেকজেন্ডার ও রামগদি থেকেও চাঁদপুরে ইলিশ আসছে। গফুর জমাদার মৎস্য আড়ৎদের দায়িত্ব থাকা মিজানুর রহমান শেখ জানান, আজ সোমবার আমাদের গদিতে প্রায় ১০ মণ ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এসব ইলিশ ভোলা, চরফ্যাশান ও নোয়াখালীর আলেকজেন্ডার থেকে এসেছে। ১ কেজি ইলিশ ৬০ হাজার টাকা মণ, ১৫’শ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ৭/৮/৯ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ ৪০ হাজার টাকায় কেজি ৯’শ হতে ১ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। তবে এখন ভরপুর মৌসুম হলেও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে মৌসুমে ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। এ বছর জাটকা নিধনের ফলে ইলিশ মাছের উৎপাদন কম হচ্ছে। প্রশাসনের সঠিক মনিটরিং না থাকায় ভর মৌসুমে ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। মোঃ আজিজুল হক জমাদার জানান, প্রতি কেজি ইলিশ ১৭’শ থেকে ১৮’শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৭’শ/৮’শ টাকার ইলিশ ৯’শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ইলিশের আমদানি কয়েকদিন বেশি ছিল। আজ ২ দিন যাবত তুলনামূলক কম হচ্ছে। মোকলেছুর রহমান ভূঁইয়া, সিরাজ চৌকদার গদির ফারুক চৌকদার, কালু ভূঁইয়া আড়ৎদের ফারুক দর্জি, লিটন দে, মেসার্স গাজী ফিস ট্রেডার্সের দেলোয়ার হোসেন দেলু, দুলাল রাঢ়ী, কামাল গাজী ও জামাল খান জানান, এ বছর ভর মৌসুমে কয়েকদিন আগে প্রচুর ইলিশ আমদানি হয়েছে। আজ ২দিন তুলনামূলক ইলিশ আমদানি একটু কম হচ্ছে। তবে দাম বিগত বছরের তুলনায় কম। এতে করে জেলেদের ইলিশ আহরণ করে যে পরিমাণ খরচ হয়, আহরিত ইলিশ বিক্রি করে সে পরিমাণ অর্থ পাচ্ছে না।
