
বিশেষ প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জে মাত্র দু’ দিনের ব্যবধানে দুই ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ১জন চিকিৎসক সহকারী আটকের ঘটনায় হাজীগঞ্জজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পর পর দুই ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আটকের ঘটনায় স্থানীয়রা হাজীগঞ্জের চিকিৎসা ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দ্বিধা করছেন না। চিকিৎসা সেবাকে নিয়ে এ কেমন প্রতারণার মঞ্চ তৈরি হচ্ছে হাজীগঞ্জে এমনটাই চাউর হচ্ছে উপজেলাজুড়ে। তবে উপজেলা বেসরকারি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি আহসান হাবীব অরুণ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অবৈধ কোনো কিছুকে আমরা কোনোভাবেই ছাড় দেবো না। আর এ সকল অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি।
গত শনিবার হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আক্তারুজ্জামান নামে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। আক্তারুজ্জামান তার চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো সনদ না দেখিয়ে বা হাসপাতালে জমা দিতে টালবাহানা শুরু করেন। এভাবে তিনি নিয়মিত রোগী দেখে আসছেন আর বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দিয়ে এই ভুয়া চিকিৎসককে ধরিয়ে দেয়। আবার মাঝখানে একদিন পর গতকাল সোমবার দুপুরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাজারস্থ ইসলামিয়া মডার্ন হাসপাতাল (প্রাঃ) থেকে মেডিসিন, চর্ম ও কসমেটিকস্-এর উপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নামে এমএস জামান চৌধুরীকে আটক করে। একই সাথে কথিত এই চিকিৎসকের সহকারী ইমরুল হোসেন পাটোয়ারীকে আটক করা হয়। আটকের পর এ দু’জন তাদের অপরাধ স্বীকার করেন এবং তারা ভুয়া চিকিৎসক বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হাজীগঞ্জ টাওয়ারের ব্যবসায়ী মোঃ ফখর উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি নিজে সম্প্রতি ৫শ’ টাকা ফি দিয়ে জামান চৌধুরীকে দেখিয়েছি, আর এখন দেখি সে নিজেই ভুয়া। তার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঔষধ সেবন করে আমার কোনো উপকার না হবার কারণে আমি অন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছি।
এদিকে পুলিশ যখন জামান চৌধুরী ও ইমরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসছিলো, তখন স্থানীয়দের বলাবলি করতে শোনা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারে দীর্ঘদিনের পুরানো একটি হাসপাতাল ইসলামিয়া মডার্ন হাসপাতাল। কীভাবে এরা কোনো সনদ না দেখে একজন ভুয়া ব্যক্তিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে চেম্বার করতে দেয়? তাও আবার এই ভুয়া ডাক্তারের জন্যে মার্কেটে ব্যানার টানিয়ে ৫শ’ টাকা ভিজিটে রোগী দেখার সুযোগ করে দেয়? মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ চর্ম ও কসমেটিকস্ চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখার সাহস পায় সে কোথায়?
এ বিষয়ে বেশ কজন ব্যবসায়ী ক্ষোভের সাথে জানান, আমরা সাধারণ মানুষ অসুখ-বিসুখে এখানকার হাসপাতালগুলোতে যাই বা আত্মীয়-স্বজনকে চিকিৎসা করাতে পাঠাই। আবার ৫শ’ টাকার নীচে কোনো ডাক্তারের ভিজিট নেই। এ সকল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (?) সপ্তাহের বিভিন্ন দিন চেম্বার করে থাকেন। এদের মধ্যে কে ভুয়া আর কে সঠিক এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের বোঝার কোনো ক্ষমতা নেই। এ বিষয়ে প্রকৃত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই-বাছাই করে আমাদেরকে সঠিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হউক।
গতকাল সোমবার আটককৃত কথিত চিকিৎসক জামান চৌধুরী চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার বাজপ্তি গ্রামের মৃত আছাদুজ্জামানের ছেলে। তিনি বর্তমানে গাজীপুর জেলার মাওনা উপজেলার শিংচুর (মূলাইদ) গ্রামের বাসিন্দা। আর ইমরুল হোসেন পাটওয়ারী সদর উপজেলার হানারচর গ্রামের (আখনহাট) মৃত বেলায়েত পাটওয়ারীর ছেলে। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুগরাকুল গ্রামের বাসিন্দা।
কথিত চিকিৎসক জামান চৌধুরীর জন্যে ইসলামিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে ডিসপ্লে বোর্ড টানিয়েছে তাতে দেখা যায় এমএস জামান চৌধুরী এম.বি.বি.এস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য) (অবঃ), এমডি (মেডিসিন), ডিডিভি (অস্ট্রিয়া), সিএ ডার্মাটোলোজি (লন্ডন) এবং এঙ্ কনসালটেন্ট, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সিনিয়র কনসালটেন্ট, ল্যাব এইড হসপিটাল, ঢাকা ব্যবহার করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাঃ জাবেদুল ইসলাম ভুয়া চিকিৎসক ও তার সহযোগীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের কাছে তাদের নিজ নামে চিকিৎসকের ব্যবহৃত প্যাড ও ভিজিটিং কার্ড পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
