
শওকতআলী॥
মুক্তিযুদ্ধে রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদের ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অত্যান্ত আনন্দ ঘন পরিবেশে শিশু-কিশোর,অভিভাবক ও সুধিজনের উপস্থিতির মাধ্যমে ৪র্থ ছড়া উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। (২২ অক্টোবর) রবিবার চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে দুই পর্বে এই উৎসবকে সমাপ্ত করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩ টায় উদ্বোধনি পর্বে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্যদিয় আয়োজনের শুভ সূচনা শুরু হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ছড়া বিষয়ক টক শো, স্থানীয় ছড়াকারদের স্ব-রচিত ছড়া পাঠের আসর, সাধারন জ্ঞানের আসর ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় সকল পর্যায়ের শিশু-কিশোর ও ছড়া আবৃত্তিকাররা অংশ নেন।
সন্ধ্যায় দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখবেন ড. এ এস এম দেলওয়ার হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী।
ছড়া উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক বিশিষ্ট ছড়াকার ডাক্তার পীযূষ কান্তি বড়–য়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ মতিন মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শওকত ওচমান, সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুরের মহাপরিচালক রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত। সন্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক গাজী মুনসুর আজিজ, জেলা কালচারাল অফিসার আবু সালেহ মো. আব্দুল্লাহ।
স্বরলিপী নাট্যদলের সভাপতি নাট্যকার এম আর ইসলাম বাবু এবং কণ্ঠশিল্পী মৌমিতা আচার্যীর যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সভাপতি অজিত দত্ত, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল সরকার।
বক্তারা বলেন, চাঁদপুর সাহিত্যের জন্য বর্তমানে আমরা সুবর্ণ সময় পার করছি। ইতিমধ্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি সফল সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলা একাডেমীর মহা-পরিচালকসহ দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিকরা উপস্থিত ছিলেন। আজকে যে ছড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে তা সাহিত্য একাডেমি অথবা শিল্পকলা একাডেমির করার কথা ছিলো। কিন্তু সে দায়িত্ব মোহন বাঁশী স্মৃতি সংসদ নিয়েছে। আমরা এজন্য সংগঠনের সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
বক্তারা আরো বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্মকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিল্প-সহিত্য ও সংস্কৃতিকমনা করে তুলতে এসব উৎসবগুলোর কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করবো এ উৎসব আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
আলোচনা পর্ব শেষে উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
