শওকত আলী:
চাঁদপুর মৎস্য আড়ৎগুলোতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রচুর ইলিশ আমদানী হয়েছে। তবে যে পরিমান ইলিশ আমদানী হয়েছে,তাতে চাঁদপুর বাসীর চাহিদা মিঠেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। আমদানীকৃত ইলিশের দাম সাধারন ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিল বলে অনেক ক্রেতা জানান।
গতকাল সোমবার ২২ দিন পর যে পরিমান আমদানী হওয়ার ধারনা তার চাইতে তুলনা মূলক অনেক ইলিশ আমদানী হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ধারনা করছেন, চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে প্রচুর ইলিশ সাগরের ভাটি থেকে প্রবেশ করেছে,বলে ইলিশের শরীরের ঝকঝক থেকে ভুজা যাচেছ। চাঁদপুরের ৫০টি আড়তের মধ্যে ১০টি আড়তে প্রায় ৩শ মন ইলিশ আমদানী হয়েছে,বলে ইলিশ আড়ৎদাররা জানান। এ ছাড়া ছোট-ছোট আড়ৎগুলোতেও ইলিশ আমদানী হয়েছে ১৫/২০ মন করে। ব্যবসায়ীরা জানান,২২ আক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে নামে। যার ফলে মঙ্গলবার আশা করা যাচেছ,আরো বেশী ইলিশ আমদানী হবে। জেলে ও ব্যবসায়ীদের মতে জেলা প্রশাসনসহ সকল প্রশাসন মা”ইলিশ ডিম ছাড়ার সুয়োগ দেওয়ার জন্য দিনরাত ব্যাপক অভিযান করে। সে কারনে এ বছর জাটকা উৎপাদন আশা করা যায় বেশী হবে। এ জাটকাকে রক্ষা করতে পারলে প্রচুর ইলিশ উৎপাদন হওয়ার আশংকা রয়েছে। দীর্ঘ ২২দিন পর হলেও এ ইলিশ ক্রয় করতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সোমবার শত-শত মানুষ মৎস্য আড়তে এসে ভিড় করেছে। বড় সাইজের ইলিশ ছিল ৩৫/৪০ হাজার টাকা মন,মাজলা সাইজের ইলিশ ছিল ২২/২৪ হাজার টাকা মন, ৫শ গ্রাম হতে ৬শ গ্রাম ইলিশের মন ছিল ১৮হাজার টাকা মন
চাঁদপুর মৎস্য আড়তে তুলনা মূলক হারে ইলিশ আমদানী হওয়ায় ব্যাবসায়ী,ক্রেতা,–বিক্রেতারা ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়ে আনন্দে মেতে উঠতে দেখা গেছে।
সরোজনিনে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য আড়তে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্রগ্রামের হাতিয়া ও দক্ষিন অঞ্চলের ভাটি এলাকা কুয়াকাটা,পাথরঘাটা,মহিবুল,বরিশাল,চরফেশান,সামরাজসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ সব ইলিশ আমদানী হচেছ । ব্যবসায়ীরা জানান, ৫শ,৬শ ও ৭শ গ্রামের ইলিশ আমদানী সব চেয়ে বেশী।
চাঁদপুর মৎস্য আড়তের মানিক ট্রেডার্সের বিশিস্ট ব্যবসায়ী বাবুল হাজী জানান, ২২ দিন পর হলেও ইলিশের আমদানী বেশী হচেছ। ৪/৫ গ্রামের ইলিশ ৪শ হতে সারে ৪শ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে উপকূলীয় এলাকাসহ নদ-নদীতে ইলিশ ধরতে নেমে পড়েছেন জেলেরা। ফলে সোমবার (২৩ অক্টোবর) থেকে ফের বাজারে ইলিশ পাওয়া যাচেছ।
এবার ইলিশ ধরার ২২দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়েই পূর্ণিমা ও অমাবস্যা ছিল। ফলে এবার বেশি ডিম পাড়ার সুযোগ পেয়েছে ইলিশ। এছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করায় বেশি ইলিশের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে গত ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত (২২ দিন) ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। তবে এ সময়ে (শনিবার পর্যন্ত) মাছ ধরায় সারাদেশে প্রায় এক হাজার ৩৫০ জন জেলেকে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। চাঁদপুরে কারাদন্ড ও জরিমানা করা হয়েছে ১২৪ জন জেলেকে।
এবার দেরী করে হলেও ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের শেষ সময়ে ২৫ জেলায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬২টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাল দিয়েছে সরকার।
মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নেয় মৎস্য অধিদফতর। মৎস্য অধিদফতরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শেখ মুস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান সমন্বয়কারী করে কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়।
মৎস্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. রমজান আলীকে আহ্বায়ক করে আরও একটি টিম গঠন করা হয়। চলতি বছর ইলিশসমৃদ্ধ মৎস্য বিভাগীয় দফতরসহ জেলা ও উপজেলায় কমরত মৎস্য অধিদফতরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মৎস্য অধিদফতরের সঙ্গে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌপুলিশ, বিজিবি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৫০ সালের মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন (প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন ফিস অ্যাক্ট, ১৯৫০) অনুযায়ী প্রতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে একটি নির্দিষ্ট সময় ইলিশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। গত বছর এ সময় ছিল ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।
চান্দ্রমাসের ভিত্তিতে প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে এ বছর আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদের পূর্ণিমার দিন এবং এর আগে ৪ ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা হয়। এবার ৫ অক্টোবর আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদের পূর্ণিমা ছিল।
