চাঁদপুর ও আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলায় মাত্রাতিরিক্ত ঠা-ার কারণে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২১ দিনে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মতলব আইসিডিডিআরবি (কলেরা) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোগী। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ১৮০জন। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তিনগুণের চেয়েও বেশি।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) মতলব শাখা সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রে গত ২০ ডিসেম্বর ‘১৭ থেকে গতকাল ৯ জানুয়ারি ‘১৮ পর্যন্ত (২১ দিনে) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৩শ’ ৬৮ জন। এর মধ্যে ৮ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু ২ হাজার ৬৯৪ জন। বাকি ৬শ’ ৭৪ শিশু রোগীর বয়স পাঁচ বছরের ঊধর্ে্ব। উল্লেখিত সময়ে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ১৮০ জন। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তিনগুণেরও বেশি। স্বাভাবিক সময়ে এখানে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয় ৫০-৫৫ জন রোগী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৬ সালে ৩৩ হাজার ৪শ’ ৭৭ জন ও ২০১৭ সালে ৩৬ হাজার ৪শ’ ২৭ জন রোগী এখানে ভর্তি হয়েছে। আর উল্লেখিত ২১ দিনে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৩শ’ ৬৮ শিশু। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১৮০ জন শিশু। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত একদিনেই এখানে ভর্তি হয়েছে ১৩২ জন।
সূত্রটি আরও জানায়, ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, হাইমচর, মতলব উত্তর, শাহরাস্তি, কুমিল্লার বরুড়া, মুরাদনগর, চান্দিনা, কুমিল্লা সদর, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার, বুড়িচং, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, তিতাশ, লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, নোয়াখালীর চাটখিল, ফেনী সদর, নোয়াখালী জেলা সদর, কঙ্বাজার জেলা সদর, মুন্সীগঞ্জ জেলা সদর ও শরীয়তপুর জেলা সদরের রোগীর সংখ্যা একটু বেশি। সূত্রটি আরো জানায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার সার্ভিস এরিয়ায় এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোটাভাইরাসের সেবা দেয়ার কারণে এ উপজেলায় তুলনামূলকভাবে এ রোগীর সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে। এ হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী আসলে প্রথমে তাদের অভিভাবকদের কাউন্সিলিং করা হয়। এরপর তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার আইসিডিডিআরবির মতলব শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। বয়স্ক রোগীদের সংখ্যা তেমন নয়। ডাক্তারগণ ও সেবিকারা রোগীদের দ্রুতই ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে আসা ৮ মাস বয়সী শিশু জান্নাতুল আক্তারের মা তানিয়া আক্তার বলেন, ‘৬/৭দিন ধইরা মাইয়াডা ঘন ঘন বমি ও পাতলা পায়খানা করতেছিল। গত সোমবার এনে আনছি। স্যালাইন ও বেবিজিংক খাইতে দিছে। এহন একটু বালা।’
