স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুরে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে অর্ধশত অবৈধ লেভেলক্রসিং স্থাপন করেছে স্ব-স্ব এলাকাবাসী। চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে ঘটে চলছে দুর্ঘটনা। এতে করে এ পথে চলাচরকারী যাত্রীরা থাকতে হচেছ মারাত্বক আতংকের মধ্যে।
চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে অননুমোদিত বা অবৈধ লেভেলক্রসিং রয়েছে প্রায় ৫০টি। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে এ পথে অবৈধ লেভেলক্রসিং রয়েছে ৩৭টি। এসব লেভেলক্রসিং পার হয়ে প্রতিদিন শত শত গাড়ি আর হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। লেভেলক্রসিংগুলোতে বেরিয়ার না থাকার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ট্রেনযাত্রী, পরিবহনযাত্রী ও পথচারীদের অমূল্যজীবন। এসব লেভেলক্রসিং পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় জীবনহানিসহ অঙ্গহানির মতো ঘটনা ঘটছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ ৩৭টির মধ্যে ৬টি রেলক্রসিংকে বৈধ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে রেরওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলসূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের মধ্যে ৫৪ কিলোমিটারে বর্তমানে ৫৬টি লেভেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি বৈধ অর্থাৎ রেলওয়ে থেকে অনুমোদিত। আর ৩৭টি অবৈধ মানে অননুমোদিত। অবশ্য রেল কর্তৃপক্ষের হিসেবের বাইরে আরো বেশ কটি অবৈধ লেভেলক্রসিং রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ রুটে প্রতিদিন ২টি ড্যামু ট্রেন, ২টি মেইল ট্রেন,সাগরিকা ও ২টি আন্তঃনগর মেঘনা এঙ্প্রেসসহ ৬টি ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে।
সরজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের হাজীগঞ্জ উপজেলা অংশে অননুমোদিত লেভেলক্রসিং রয়েছে ১১টি। আর এর বাইরে অনুমোদিত রয়েছে মাত্র ১টি, যেটিতে বেরিয়ার ব্যবহার হচ্ছে। অননুমোদিত লেভেলক্রসিংগুলোর মধ্যে অধিকাংশ লেভেলক্রসিং ব্যবহার করে সারাদিন প্রচুর পরিমাণ যান চলাচল করে থাকে। এর মধ্যে শাহতলী, মৈশাদী, মধুরোড, বলাখাল, হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার দুটি, ওয়ারুক স্টেশন এলাকা, মেহার ও শাহরাস্তি মাজার লেভেলক্রসিং দিয়ে সবচেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করে থাকে। আবার মেহার থেকে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত অননুমোদিত পাঁচটি লেভেলক্রসিং সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে লক্ষ করা গেছে।
সরজমিনে আরো দেখা যায়, গৌরিপুর-কচুয়া-হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর সড়কের হাজীগঞ্জ বাজার এলাকা দিয়ে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ অতিক্রম করেছে অবৈধ একটি লেভেলক্রসিং। ঠিক একই অংশের মাত্র ১শ’ গজ পূর্বে হাজীগঞ্জ (থানা রোড সম্মুখ)-ধড্ডা-রঘুনাথপুর বাজার সড়ককে আরেকটি অবৈধ লেভেলক্রসিং রয়েছে। মাত্র ১শ’ গজের মধ্যে দুটি লেভেলক্রসিংয়ের মধ্যে কোনো বেরিয়ার নেই। গত বছর এই লেভেলক্রসিং অতিক্রমকালে একটি অটোরিঙ্া আটকে গেলে অটোযাত্রী ও অটোচালক দু জনেই ট্রেনে কাটা পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনার পর থেকে বেশ কদিন এই দুটি ক্রসিংয়ে দু’জন লোক দায়িত্ব পালন করার কদিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। গত ক’মাস আগে শাহরাস্তির নাওড়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিঙ্া রেলপথে উঠে আটকে যায়। এ সময় চাঁদপুরমুখী একটি ট্রেন যাত্রীবোঝাই ওই অটোরিঙ্াটিকে আঘাত করলে সেটি ছিটকে পড়ে। সে ঘটনায় ৫ যাত্রীর সবাই মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এভাবে বছরে অনেক দুর্ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকাই নিতে দেখা যাচেছনা।
এসব অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ে বছরে বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটে বলে সদ্য যোগদানকারী চাঁদপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ার আলম জানান, আমি একেবারে সদ্য যোগ দিয়েছি। বিস্তারিত না জেনে এসব বিষয়ে বলতে পারবোনা।
চাঁদপুর রেল পুলিশ থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া অফিসার ইনচার্জ উছমান গণি পাঠান জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে সকল রেলস্টেশনের কাছাকাছি বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ সচেতনতামূলক সভা করে আসছে। তারপরেও চাঁদপুর জিআরপি থানা পুলিশের হিসেব মতে অসাবধানতা ও দুর্ঘটনায় গত তিন বছরে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে মারা গেছে অন্তত ২৫ জন।
অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার জানান, অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ের কারণে ট্রেন ধীর গতিতে চলে। অবশ্য অতিগুরুত্বপূর্ণ ৬টি অননুমোদিত লেভেলক্রসিং এলাকায় গেট তৈরি ও জনবল দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর ব্যাপারে চালক ও যাত্রীদের সাবধানতার সাথে চলাচলের জন্য বলা হয়েছে।
