শওকতআলী॥
চাঁদপুর জেলাধীন সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ন একটি জনপদের নাম ১৪নং রাজরাজেশ^র ইউনিয়ন। এখানে প্রায় ২০হাজার মানুষের বসবাস। এখানকার একটি প্রভাবশালী চক্রের গোপন ইশারায় এখান থেকে প্রতিদিন দিনে ও রাতে ড্রেজার দানবের মাধ্যমে এক শ্রেণীর ড্রেজার মালিক অবৈধ ভাবে বালি ও মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচেছ। এতে করে এ এলাকার মানুষজন মারাত্বক আতংকের মধ্যে রাত্রি যাপন করতে হচেছ। ইতিমধ্যে এ এলাকার ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ সরকারি বহু স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের বহু বসতভিটা, ঘর-বাড়ি ও, ফসলের জমিজমা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।
এ ‘ড্রেজার দানবের হাত থেকে নদীসিকিস্ত এলাকা রাজরাজেশ্বর রক্ষা করো’ এই শ্লোগানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চাঁদপুর সদর উপজেলা নদী সিকিস্তি চর ১৪ নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসী। সোমবার (৫মার্চ) সকালে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডস্থ লক্ষ্মীর চর এলাকার শত-শত কৃষক, শ্রমিক, জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারী-পুরুষ স্বর্তস্ফুতভাবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। এসময় তারা ‘ড্রেজার দানবের হাত থেকে, রাজরাজেশ্বর চর এলাকাটি রক্ষা করো’ আমার মাটি আমার জমি রক্ষা করো রক্ষা করোসহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দাবি জানান, ইউনিয়নের জাহাজমারা, কুনচুরী, লক্ষ্মীরচর, চিরারচর নদীর তীরে ড্রেজার দ্বারা অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে বসতঘর, ফসলি জমি ও স্কুল মাদ্রাসাসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহ হুমকির মুখে রয়েছে। তাই অবিলম্ভে এই ড্রেজার দানবের হাত থেকে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নটি রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কমনা করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী নাসিমা বেগম, রেনু বেগম, কুলসুমা বেগম জানান, আমরা চরের মানুষ। নদীর পাড়ে বসবাস করি এবং নদীর পাড়ের জমিতে চাষাবাদ করে জীবনযাপন করছি। গত ৭/৮ মাস যাবত ড্রেজার দিয়ে নদীর পাড় থেকে বালু ও মাটি কেটে নেয়ায় নদী দিনে দিনে বড় হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমাদের বহু ঘর-বাড়ি আর ফসলের জমি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে
স্থানীয় কৃষক সোবাহান, সোহেল, বাজারের দোকানী আলম বকাউল ও জেলে মো. কামাল, ইসমাইল গাজী সহ অনেকেই জানান, গত কয়েক মাস ধরে প্রায় অর্ধশত ড্রেজার নদীর তীর থেকে বালু কেটে নিচ্ছে। দিনের বেলায় ড্রেজারগুলো নদীর মাঝখানে অবস্থান করে আর সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত সেগুলো নদী তীরে এসে উৎসব করে বালু ও মাটি কেটে নিয়ে যায়। যার ফলে ইতিমধ্যেই ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ সরকারি বহু স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও জমিজমা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।
তারা আরো জানান, এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। আমরা গরিব দুখী মানুষ, কোথায় যাবো, কি বরবো কিছুই চিন্তা করে পারছি না। তাই এবিষয়ে আমরা আমাদের মাননীয় এমপি ডা: দীপু মনি ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে হস্থক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা জানান, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল সম্পর্কে আমার জানানেই। অবৈধ কোন কিছুই প্রশাসন সার্পোট দিবেনা। প্রশাসন সব সময় অবৈধের বিরুদ্বে। আমরা বিষয়টি জেনে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো। বালি নদী থেকে উত্তোলন করা সম্পূর্ন অবৈধ সেটা আমরা সবাই জানি। কারা এ কাজটি করছে,সেটা সম্পর্কে আপনাদের –আপনাদের জানা রয়েছে। ইতি পূবেূ আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থাও নিয়ে ছিলাম।
এখানে প্রায় ২০হাজার মানুষের বসবাস। ইতিপূর্বে অনেক বসতি সরকারী স্থাপনা ভেঙ্গে গেছে। আমাদের চার দিকে নদী মাঝ খানে বসবাস। আমাদের ইউনিয়ন প্রতিনিয়তই ভাংঙ্গে। বর্ষা এলে এখানে নদী বেশী ভাঙ্গে। নদীর মাঝখান থেকে বালি উত্তোলন করলে ভাল। নদীর পাড় থেকে বালি বা মাটি উুত্তোলন করলে এলাকার বেশী ক্ষতি হয়। তবে এ ভাংঙ্গোন বন্ধ করা প্রয়োজন।
