স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুরে আলআমিন স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্রী শাখায় শিক্ষক বদলি ঠেকাতে এবং অধ্যক্ষকে বহিস্কারের দাবিতে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষুদ্ধদের শান্ত করে তাদের কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আজ সোমবার দুপুরে শহরের পালাপাড়া এলাকায় কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন আগে কলেজ কর্তৃপক্ষ ইংরেজির শিক্ষক ফারুকুল ইসলাম ও গণিতের শিক্ষক নিয়াজুল ইসলামকে কোনও কারণ ছাড়া বদলি করে। তাদের দাবি, এই দুই শিক্ষক বেশ ভালো ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কোনও ধরনের অনৈতিক কাজে এই দুই শিক্ষক সমর্থন না দেওয়ায় ছাত্রী শাখা থেকে অন্য শাখায় বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার জন্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল গাফফারকে দায়ি করে।
বর্তমানে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মকবুল হোসেন এ ঘটনার কথা স্বীকার করে জানান, ওই শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের চেষ্টা করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশ এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদকে জানানো হয়।
তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সব পক্ষকে নিয়ে দ্রুত বৈঠক করা হবে এবং অচিরেই তা সমাধান হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্র শাখার একদল শিক্ষার্থী ছাত্রী শাখায় ঢুকে বিক্ষোভ করতে বাধ্য করে। এ সময় তারা কলেজের বেশকিছু জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা চলে যায়। এদিকে খবর পেয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তিনি বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাইরে পাঠিয়ে দিতে সহায়তা করেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ সবধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, চাঁদপুর আলআমিন স্কুল এন্ড কলেজ জামায়াতে ইসলামীর ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। অধ্যক্ষ এবং তার সহকর্মীদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদ নিয়ে বিরোধ চলছে। ফলে ছাত্র ও ছাত্রী শাখার শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে।
