শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ভিতর ও বাহিরে দিন দিনই বেড়ে চলছে আ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিবসহ অন্যান্য বখাটে চালকদের দৌরাত্ম্য। তাদের কারণে পথচারীসহ বিভিন্ন রোগী ও হাসপাতালে দেখতে আসা রুগীর স্বজনরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সদর হাসপাতালে রুগী দেখতে আসা এক যুবতীকে রাতের আধাঁরে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদপুর ট্রেলিগ্রাফ অফিসের পরিত্যাক্ত ভবনের ভিতরে শীলতাহানী করে আ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিবসহ অন্যান্য বখাটে যুবকরা।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় মডেল থানা সংলগ্ন ডেলী প্রতিমা বিদ্যালয়ের সামনে ট্রেলিগ্রাফ অফিসের পরিত্যাক্ত ভবনের ভিতরে অন্ধরার স্থানে।
রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে এলাকার কয়েকজন পথচারী ঘটনাটি আড়াল থেকে দেখতে পেয়ে হাতে নাতে ট্রেলিগ্রাফ অফিসের ভবনের পিছনে গিয়ে আ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিবসহ অপর এক বখাটেকে আটক করে মোবাইলে তাদের ছবি ধারন করে। খবর পেয়ে এই প্রতিবেদক ঘটনাস্তলে যাওয়ার পরেই পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে এ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিব ও তার সহযোগী দৌড়ে পালিয়ে যায়।
সময়মত এলাকার পথচারীরা ঘটনাটি দেখতে পাওয়ায় সেই যুবতী ধর্ষনের হাত থেকে রেহাই পায়। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ যুবতীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের লোকজনদের খবর দেয়। পরে নাজির পাড়া ছৈয়াল বাড়ি রোডের ভারাটিয়া যুবতীর বোন ও ভগ্নিপতি মডেল থানায় গিয়ে ঘটনা জানেন।
তার জানায়, বোন তাছলীমা আক্তার লাখি পরিবারের সাথে রাগ করে সোমবার সকালে মৈশাদী নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। তাকে সকল জায়গায় খোঁজা খুজি করার পরে না পাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ফোন করে আমাদের জানায়।
যুবতী লাকি জানায়, সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। পরে বড় ভাই সড়ক দূরঘটনায় আহত হবার খবর শুনে তাকে দেখতে রাতে চাঁদপুরে এসে সদর হাসপাতালে যায়। কিন্তু হাসপাতালে আসার পূর্বেই ভাইকে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়ার পরে এই পথ দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথে আ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিবসহ অন্যান্য বখাটে যুবকরা পিছু নেয়। পরে রাকিব হাত ধরে জোড় করে ট্রেলিগ্রাফ অফিসের পরিত্যাক্ত ভবনের পিছনে অন্ধরার স্থানে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে শীলতাহানী করার চেষ্টা করে। এর কিছুক্ষন পরে পথচারিরা দেখতে পেয়ে তাদের ধাওয়া করলে আমি শেষ রক্ষা পাই।
যুবতীর বড় বোন তাকে ফিরে পাওয়ার পরে ঝামেলা এড়াতে কোন ধরনের মামলা করতে না বলে পুলিশকে জানিয়ে তাদের জিম্বায় যুবতী লাকিকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে যে অ্যাম্বুলেন্সের চালক রাকিব ও বখাটে হেলপাররা রাতের বেলায় হাসপাতালের বাউন্ডারির ভেতর গাড়ি পাকিং করে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ফিরে রোগীর লোকজনের সাথে ইভটিজিংয়ে লিপ্ত হন। এমন কি চালক রাকিব সহ অন্যন্য চালকরা সুযোগ পেলে হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং রোগীদের মোবাইল সেট চুরি করে। বেশ কয়েকবার হাসপাতালের ভিতরে মোবাইল চরি ও পাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের চাকা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র চুরির ঘটনায় বখাটে রাকিবকে আটক করে। কিন্ত অ্যাম্বুলেন্স মালিক বার বার চোর রাকিবকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তার প্রস্রয় পেয়ে চালক রাকিব হাসপাতালে ভিতরে ও বাহিরে এই ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সে হাসপাতালের ভিতরে গিয়ে প্রতিদিন বখাটে যুবকদের সাথে নিয়ে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট করে দেয়।
খবর নিয়ে জানা যায়, আ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিব শহরের কোড়ালিয়া রোডের ভাড়াটিয়া মোস্তফা বাবুচির ছেলে। তার মা পারভিন বেগম কয়েক মাষ পূর্বে এক ম্যাজিষ্টেটের বাসায় চুরির ঘটনায় আটক হয়ে জেল খাটেন।
মা ও ছেলের এই ধরনের অপকর্মের খবর জানতে পেরেও আ্যাম্বুলেন্স মালিক তাকে চাকরিতে বলবত রাখায় সে হাসপাতাল এলাকায় এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিহত ঘটিয়ে যাচ্ছে।
ভূক্তভূগি রুগি ও রুগির স্বজনদের দবি হাসপাতালের ভিতরে যেন কোন আ্যাম্বুলেন্স চালক ও বহীরাগত বখাটে যুবরা রাতের বেলায় আসতে না পারে। সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষ যেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করে।
