শাহরিয়ার খাঁন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২নং চাঁন্দ্রা ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার আব্বাস সহ কয়েকজন এক ব্যাক্তিকে ঘরে আটকে রেখে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পরেই তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্বাস মেম্বারের কাছ থেকে টাকা রফাদফা করে আটক মোস্তফাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এই ঘটনায়
আশরাফুল আলম মোস্তফা বাদি হয়ে ইউপি মেম্বার আব্বাস সহ ৫জনকে আসামি করে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ৯টায় ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বাখরপুর গ্রামের খাঁন বাড়িতে।
জানা যায়, চাঁন্দ্রা বাখরপুর গ্রামের বাংলাবাজার এলাকার আশরাফুল আলম মোস্তফা ঢাকা ই-কমার্শ মার্কেটিং কোম্পানী, বিক্রয়হাট ডট কম লিঃ এর মার্কেটিং অফিসার পদে চাকরি করে।
গত জুন মাষে বাংলাবাজার আদর্শ একাডেমীতে ঢাকার এবি নিউট্রিক মালয়েশিয়া কম্পানীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার হয়। সে সময় আশরাফুল আলম মোস্তফা বাড়িতে আশার পর সেখানে তার বন্ধু পাশের এলাকার সাইদ খাঁন সহ সেমিনারে যায়। সাইদ খাঁন তার গলায় টিউমার ভালো করার জন্য সেমিনারে আসা ডাক্তার ইলিয়াস ও শাহিনের পরামস্য নেয়। পরে ঢাকা মালিবাগ এবি নিউট্রিক মালয়েশিয়া কম্পানীর মূল অফিসে রুগী সাইদ খাঁন তার বন্ধু মোস্তফাকে নিয়ে গিয়ে আয়ুবেতিক সিরাপ কিনে সেবন করে।
৩ মাষ সিরাপ খাওয়ার পরে ডিউমার মোটামুটি ভালো হয়। এর কিছুদিন পর রুগি সাইদের জ্বর হলে তাকে চাঁন্দ্রা চৌড়াস্তা ঔষধের দোকানে নিয়ে শরীরে একটি ইনজেকশন পুষ করলে তার শাররীক অবস্থা অবনতি হওয়ার পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়। তাকে পরিক্ষা নিরীক্ষা করে ডাক্তার দেখে রুগী সাইদের লিভারে সমস্য দেখা দিয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল থেকে সাইদকে তার পরিবারের লোকজন তার বাড়িতে নিয়ে আসে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় আশরাফুল আলম মোস্তফা তার বন্ধু সাইদ খাঁনকে বাড়িতে দেখতে যায়।
সেখানে যাওয়ার পরেই মোস্তফাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ইউপি মেম্বার আব্বাস সহ সাইদের ভাই ছানাউল্লা বোনের জামাই মমিনুল ইসলাম ঘরে আটক রেখে রুগীর ঔষধ খেয়ে ক্ষতি হয়েছে বলে অপবাদ দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে মোস্তফার মামাতো ভাই হাবিব খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তার জিম্মায় ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।
এর পরের মোস্তফাকে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে মেম্বার আব্বাস চাপ প্রয়োগ করে। টাকা না দিলে মোস্তফা ও তার জিম্মাদারকে বাড়ি থেকে ধরে এনে মারধর করবে বলে হুমকী দেয়।
এইঘটনায় চাঁন্দ্রার এই সন্ত্রাসী আব্বাস মেম্বারের হাত থেকে রেহাই পেতে মোস্তফা বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
এই ঘটনায় আব্বাস মেম্বারের কাজে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রুগি সাইদের পরিবারের লোকজন খবর দিলে আমি সেখানে যাই। রুগির অবস্তা অবনতি হওয়ায় মোস্তফার কাছে ক্ষতিপূরন বাবদ টাকা দাবি করা হয়েছে।
এদিকে আইন লঙ্গন করে ঘরে আটকে রেখে চাঁদা দাবি করার ঘটনায় আইনি সহয়াতা চেয়ে মোস্তফা আন্তরর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন চাঁদপুর জেলা শাখা অফিসে একটি অভিযোগ করেন।
