রফিকুল ইসলাম বাবু
চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মাছঘাটে প্রায় সকল আড়তই ইলিশ মাছে সয়লাভ। ট্রলার ও ট্রাকে করে শত শত মণ ইলিশ নামছে মাছ ঘাটে। হাকডাক দিয়ে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আবার খুচরা ক্রেতাদের সংখ্যাও কম নয়। ঘাটের প্রতিটি আড়তের সামনে ইলিশের বড় বড় স্তুপ। প্রতিমণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাইজ অনুসারে ২০থেকে ৪০ হাজার টাকা। ইলিশের সাথে অন্য মাছও বিক্রি হচ্ছে আড়ৎগুলোতে। বৃহস্পতিবার মাছঘাটে গিয়ে দেখাগেছে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ট্রলারগুলো থেকে শ্রমিকরা টুকরিতে করে ইলিশ নামাচ্ছে। অন্য শ্রমিকরা বড় বড় স্তুপ করে ইলিশ সাজাচ্ছে। বিক্রি হওয়ার পর বাক্স ভর্তি করা হচ্ছে অন্যান্য জেলায় পাঠানোর জন্য। ব্যবসায়ী, পাইকারী ও খুচরা ক্রেতাদের ভীড়ে মাছঘাটে হাটার অবস্থা নেই। ইলিশ কিনতে আসা আমির ও ইমু জানান, আড়তে ইলিশের দাম বেশী। কারণ এখানে কম পরিমাণে ইলিশ কিনে কোন লাভ হয় না। ভাই ভাই মৎস্য আড়তের মালিক আব্দুল আজিজ জানান, দাক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি গত কয়েকদিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে। যার ফলে এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় চলছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টি হওয়ার কারণে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। মা ইলিশের জন্য নিষেধাজ্ঞার পূর্ব পর্যন্ত ইলিশের আমদানি চলমান অবস্থায় থাকলে জেলে ও ব্যবসায়ী সকলেই লাভজনক অবস্থায় থাকবে। চাঁদপুর ইলিশ বাজার আড়তের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, পদ্মা-মেঘনার রূপালী ইলিশের দাম একটু বেশী। ৫ থেকে ৬শ’ গ্রামের ওজনের ইলিশের মণ ২৩ থেকে ২৬হাজার টাকা। ৭শ’ থেকে ৯শ’ গ্রামের ইলিশের মণ ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ১ কেজি ওজনের ইলিশের মণ ৪০ থেকে ৪২হাজার টাকা। আর আমদানি করা সাগরের ইলিশ প্রতিমণ লোকাল ইলিশের চাইতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা কম। আরেক ব্যবসায়ী হানিফ জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, ভোলা, আলেকজান্ডার, হাতিয়া থেকে আসা ইলিশ বড় বড় কয়েকটি আড়তে বিক্রি হয়। বাকী ইলিশ মাছ স্থানীয় জেলেদের আহরণ করা। প্রতিদিন কমপেক্ষ ৫ থেকে ৭ হাজার মণ ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি জানান, গত কয়েকদিন জেলেদের জালে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ধরা পড়ছে। সাগরের প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আমদানি হচ্ছে। চাঁদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশ এখন সয়লাব। মাছঘাটের আড়ৎগুলোতে আসা ইলিশের মধ্যে ৭০% সাগরের ইলিশ বাকী ৩০% লোকাল পদ্মা-মেঘনার ইলিশ।
