চাল-কীটনাশক একসাথে রেখে বিক্রি করে যাচ্ছে অবলীলায়। আবার অধিক মূল্যে
চাল বিক্রি করছে। মূল্য তালিকাও প্রকাশ্যে টানানো নেই। এসব কারণে ৪টি চালের
আড়তকে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে
হাজীগঞ্জ বাজারস্থ চালের আড়তে এ জরিমানা করা হয়। এ সময় আদালত অধিক দামে
চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম স্বাভাবিক রাখার জন্যে নির্দেশনা দেয়।
আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
বৈশাখী বড়ুয়া। ভোক্তা অধিকার আইনে এ আদালত পরিচালনা করা হয়।
দেশে করোনা ভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে দেশের অন্য সকল এলাকার মতো চাল
পেঁয়াজসহ বেশকিছু খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি শুরু করে ব্যবসায়ীরা।
যার বাইরে হাজীগঞ্জও নয়। চালের বাজার সহনীয় রাখতে গত শুক্রবারের মতো গতকাল
রোববার হাজীগঞ্জ বাজারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চালের দাম বাড়িয়ে বিক্রিসহ নির্ধারিত মূল্যে চাল বিক্রি না করা, চাল ও সার
এক সাথে রাখা এবং প্রতিষ্ঠানে সঠিক মূল্য তালিকা না থাকার অভিযোগে
হাজীগঞ্জ বাজারে পৃথক পৃথক অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর
বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী চারজন চালের আড়তদারকে পৃথকভাবে মোট ৯৫ হাজার টাকা
জরিমানা করা হয়। জরিমানাকৃত আড়তগুলো হলো : হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারের মেসার্স
নিউ আরাফাত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমানকে নগদ ৩০ হাজার টাকা,
নূর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ ইয়াছিন আরাফাতকে ২০ হাজার টাকা, সঠিক
মূল্য তালিকা না থাকা এবং চালের সাথে সার বিক্রি করার অপরাধে মেসার্স জামাল
ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ জামাল উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা ও ফজলুল হক
ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ মামুন হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা
হয়। এ সময় হলুদ পট্টির পেঁয়াজের আড়তদারদের নির্ধারিত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি
করার নির্দেশনা প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনা
সৃষ্টির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং অভিযান অব্যাহত
থাকবে বলে তিনি জানান।
