
পাওনা টাকা চাওয়াতেই কাল হলো ইব্রাহিম খলিল সোহেল (২৭)-এর। একই উপজেলার বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বও অর্থের লিপ্সাকে আটকতে পারলো না। ছুরির ফলার তীক্ষè ছোবলে প্রাণ গেল তার। ঘটনা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহনেসবার্গের গুটেং শহরে। ছুরিকাঘাতে নিহত ইব্রাহিম খলিল সোহেল ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন ও বর্তমানে উপজেলা সদরে বসবাসরত গোলাপ সর্দারের ছেলে। ঘাতক রুবেল হোসেন চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের সাত্তার মিস্ত্রির ছেলে।
জানা যায়, পরিবারের সচ্ছলতা ফিরাতে কাঠ ব্যবাসায়ী ও করাত কলের মালিক গোলাপ সর্দারের ছেলে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাফেজ সর্দারের ভাই ইব্রাহিম খলিল সোহেল গত ৮ বছর পূর্বে দক্ষিণ অফ্রিকায় পাড়ি জমান। এতোদিন সেখানে ভালোভাবেই ব্যবসা করছিলেন। একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় আরেক প্রবাসী রুবেলের হোসেনের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। দক্ষিণ আফ্রিকার নিয়মানুযায়ী সোহেলের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র না থাকায় রুবেলের কাছে এবং ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করে। এরই মধ্যে তার কাছে বাংলাদেশী টাকায় দেড় কোটি টাকা জমা হয়।
সম্প্রতি সোহেল দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্রয়ের জন্য চেষ্টা করে। সেই লক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে রুবেলের কাছে থাকা তার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার ডেকে নিয়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করে। এরসাথে আরো কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তার পরিবার।
নিহত সোহেলের ভাই হাফেজ সর্দার জানান, তারা শুক্রবার ভোরে সোহেলের মৃত্যু সংবাদ জেনেছেন। সোহেলের সেখানে দুটি দোকান রয়েছে। আরেকটি দোকান ক্রয়ের জন্যেই ঘাতক রুবেলের কাছে পাওনা টাকা চায়। এই পাওনা টাকা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফোনে ডেকে নিয়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয় বাংলাদেশীরা সোহেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। বুধবার সর্বশেষ সোহেলের সাথে কথা হয়। সোহেলের ভাই জানান, ঘটনার পরপর ঘাতক রুবেল পালিয়ে গেছে। তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ খুঁজছে বলে তারা জেনেছেন।
সোহেলের পিতা গোলাপ সর্দার জানান, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। আমি ও আমার পরিবার খুনির বিচার দাবি করছি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের কাছে।
এদিকে সোহেলের মৃত্যুর সংবাদ ফরিদগঞ্জের টিএন্ডটি এলাকায় তাদের বাসায় পৌঁছার পর হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা-মা দিশেহারা। সোহেলের পুরো গ্রামে চলছে শোকের মাতম। গ্রামবাসী ঘাতক রুবেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। নিহত সোহেল ছিলেন তিন ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
