করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে চাঁদপুর-ঢাকা, চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রূটের সকল যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। যার ফলে লঞ্চঘাটের মধ্যে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে। তবে দু-একটি চায়ের দোকান খোলা দেখা গেছে। জনসমাগম না থাকায় এখন স্থানীয় মাদকসেবীরা লঞ্চঘাটকে তাদের নিরাপদ স্থান ও আস্তানা হিসেবে গড়ে তুলেছে। তারা অনেকটা এখানে আনন্দ উপভোগের মাধ্যমে মাদক সেবন করতে পারছে বলে এলাকাবাসীর অভিমত। এ লঞ্চঘাটের পাশেই অবস্থান করছে চাঁদপুর নৌ-থানা। সেখানে কর্মরতরা তাদের দায়িত্বের একটুও পালন করছে কিনা তা নিয়ে জনমনে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোর, যুবক ও বিভিন্ন বয়সী অনেক মাদকসেবীকে এ নিরাপদ স্থানে জড়ো অবস্থায় দেখা গেছে। কিশোর বয়সের প্রায় ৮ থেকে ১০জনকে লঞ্চঘাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসে মাদক সেবন করতে দেখা গেছে। তবে সাংবাদিক দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।
লঞ্চঘাটের পন্টুনে গিয়ে দেখা গেছে, একসাথে ৩ যুবক মাদক সেবন করছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয় কী করছেন এখানে? একজন হাতের মাদক ফেলে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। আরেকজন হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে বলে, আর এখানে আসবো না। শেষ বারের জন্যে ক্ষমাও চাইলেন।
কিছুক্ষণ পরে আবার দেখা গেলো কয়েকজন যুবক সংঘবদ্ধ হয়ে গ্যাংওয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে মনের আনন্দে সেখানে বসে নিরাপদে মাদক সেবন করছে। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, এ যেন গ্যাংওয়ে নয়, মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানা।
চাঁদপুরের প্রশাসন মাদক প্রতিরোধে ব্যাপক ব্যস্ত থাকলেও টহলরত পুলিশ কিংবা গোয়েন্দা পুলিশ লঞ্চঘাটে বিকেলে অথবা রাতে অভিযান চালালে এ এলাকার মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে এবং অনেক মাদকসেবীকে সেখান থেকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হলে এখানকার মাদকের স্বর্গরাজ্য নিমিষেই ধবংস করা সম্ভব হবে।
