
এমনিতে করোনা ঝুঁকিতে চাঁদপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুরো জেলায় চলছে লকডাউন। অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন রয়েছে।
জীবনযাত্রার চলমান অচলাবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশ নিম্ন ও মধ্যআয়ের
মানুষগুলো। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই। যা আয় করেন তার বেশিরভাগই চলে
যায় নিত্যপণ্যের বাজারে। এদিকে রমজান আসতেই বাড়ছে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয়
পণ্যের দাম। সামনের দিনগুলোতে আরো অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।
বাজারে এখন চাল, ডাল, তেল, রসুন, আদা, অন্যান্য মসলা, খেজুর, ছোলাসহ
অধিকাংশ পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এরমধ্যে চিনি, আটা, ময়দা, পেঁয়াজসহ
বেশি বেড়েছে মোটা, চিকন সব ধরনের চাল। আদা-রসুন, মরিচ, মসুরি, খেসারি, মুগ,
অ্যাংকর ডাল, ভোজ্য তেলের দামও চড়া। তবে চিনি, আটা, ময়দা, লবণ কিছুটা
স্থিতিশীল রয়েছে। তারপরও কেজিতে বেড়েছে ৪/৫ টাকা। আলুর কেজি ২২ টাকা থেকে
২৫ টাকা। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেশি।
পুরাণবাজার মসজিদ পট্টি মোড় এলাকার রিঙ্া চালক মান্নান ও স্থানীয় চা-পান
বিক্রেতা বাবুল ঢালী চিৎকার করে বলেন, ব্যবসায়ীদের গুদামে ভর্তি মালামাল
থাকা সত্ত্বেও চাল, ডাল, তেল, আদা, রসুন, মরিচসহ বাজারে সবকিছুর দামই বেশি।
কেনার সামর্থ্য দূরে থাক, আমরা সাধারণ মানুষ না খেয়ে মরার অবস্থা।
বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এমন ঊর্ধ্বগতির ফলে ব্যয়ভার বেড়ে
যাওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন,
করোনাভাইরাসের কারণে আগের মতো পণ্য সরবরাহ হচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর
থেকে মানুষকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে
যাওয়ার কারণে অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে রমজানকে কেন্দ্র করে
জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।
জানা যায়, পুরাণবাজারে তেল, চিনি, আটা, ময়দাসহ ৫টি নিত্য পণ্যের ২৫ জন
ফার্স্ট পার্টি ব্যবসায়ী রয়েছেন। পাইকারী চাল ব্যবসায়ী আছেন ৭০ জন, মসলার
পাইকারী ব্যবসায়ী ৫/৭ জন, পেঁয়াজ, আদা রসুনের ৫ জন, মুড়ি চিড়ার বড় পাইকার ৪
জন, আলু ব্যবসায়ী ৫ জন। মূলত তাদের আমদানি করা নিত্যপণ্য বাজারের চাহিদা
মিটাচ্ছে। দেশের করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের পণ্য কেনার হিড়িক পড়ে যাওয়ায় এই
পাইকারী ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই রমরমা। তারা প্রত্যেকটা পণ্যের ভাল দাম
পেয়েছে।
