
হাজীগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার জেলায় প্রথম
ধাপে আসা ৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ১জনের পজিটিভ আসে আর সে ব্যক্তি
হাজীগঞ্জের বাসিন্দা। রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর পর প্রশাসন হাজীগঞ্জ বাজারে
অবস্থিত ওই বাড়িটি লকডাউন করে দেয়। একই সময় পৌরসভার তত্ত্বাবধানে ঐ
মহল্লায় জীবানুনাশক স্প্রেসহ ডেঙ্গুর জীবনু ধ্বংসকারী স্প্রে ছিটিয়ে দেয়া
হয়েছে। এদিকে আক্রান্ত ব্যক্তি অসুস্থ থাকাবস্থায় পরিচয় গোপন করে হাজীগঞ্জ
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেঙ্রে কর্মরত সকলের নমুনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ বড় পুলের পশ্চিম অংশে শাহজালাল ইসলামী ব্যংক ভবনে
আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা বসবাস করতেন। এদিন দুপুরের
মধ্যেই বাড়িটি লকডাউন করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। ভবনটি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে
অবস্থিত। এই ভবনে আরো ৪টি পরিবার ভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাস করে। এ ছাড়া এই ভবনে
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৩ জন দারোয়ান রয়েছে যারা রোস্টার করে ডিউটি করে
আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, আক্রান্ত ব্যক্তি একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান
কার্যালয় ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। গত ১০ মার্চ তিনি কর্মস্থল থেকে হাজীগঞ্জের
বাসায় চলে আসেন। এরপর চলতি মাসের ১৭ তারিখে চট্টগ্রামে তার শ্বশুর মারা
যাওয়ায় সেখানে জানাজায় অংশ নিতে যান। চট্টগ্রাম থেকে হাজীগঞ্জে এসেই তিনি
অসুস্থ হয়ে পড়েন। আক্রান্তের বাবা একটি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক
এবং ওই ভবনের মালিক।
এদিকে সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরেই হাজীগঞ্জে
হৈ-চৈ পড়ে যায়। প্রশাসনিকভাবে বাড়িটি লকডাউন করার সাথে সাথে পৌরসভার পক্ষ
থেকে লকডাউন করা বাড়িটির আশপাশের সকল গলিতে জীবনামুক্ত স্প্রেসহ ডেঙ্গু
জীবানু ধ্বংসকারী স্প্রে ছিটিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র আসম মাহবুব উল আলম লিপন বলেন, এমনিতেই নিয়মিতভাবে আমরা
পৌর এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে জীবানুনাশক স্প্রে করে আসছি। বাড়িটি লকডাউন
করার পরেই আমরা ওই বাড়ির আশপাশের সকল গলিসহ সকল বাড়ির আশপাশে জীবানু নাশকসহ
ডেঙ্গুর জীবানু ধ্বংসকারী স্প্রে ছিটিয়ে দেয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, করোনা
আক্রান্ত ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েচিকিৎসা নিতে গিয়েছে বিধায়
স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে সবার নমুনা পরীক্ষা করা হবে।
