আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীর করোনা পজিটিভ একই পরিবারের ৩ জন আক্রান্ত

চাঁদপুর শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। জেলার মধ্যে চাঁদপুর শহর এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে। জেলায় মোট আক্রান্ত ১শ’ ১১ জনের মধ্যে ৫৬ জনই চাঁদপুর শহরের। এই শহরে সব কিছু ফ্রি স্টাইলে চলার খেসারত দিতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধসহ সব নিয়ম রক্ষা করা হলেও দিনের বেলা থাকে সবকিছুই স্বাভাবিক। এক পালবাজার, কুমিল্লা রোড, কালীবাড়ি ও হকার্স মার্কেটকে কেন্দ্র করে এসব এলাকাসহ পুরো শহরে থাকে হাজার হাজার মানুষের বিচরণ। অটোবাইক ও সিএনজি অটোরিকশা চলাচলও এখন বলতে গেলে স্বাভাবিক। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও এখন বলতে ঢিমেতালে চলছে। আর তার পরিণতি ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রিপোর্ট এসেছে মোট ৪৩টি। এর মধ্যে পজিটিভ ১৩ জনের। এর বাইরে চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম লুৎফুর রহমান পাটওয়ারীর স্ত্রীর মৃত্যু পরবর্তী রিপোর্ট সিভিল সার্জন ঢাকায় ফোন দিয়ে জেনেছেন পজিটিভ। মরহুমা খোদেজা বেগমের রিপোর্টসহ গতকাল ১ দিনেই চাঁদপুর জেলায় পজিটিভ রোগী হয়েছে ১৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮ জন। এই ৮ জনের মধ্যে চাঁদপুর শহরে হচ্ছে ৭ জন। এদিকে পজিটিভ ১৪ জনের মধ্যে মৃত হচ্ছে ৩ জন। এরা হচ্ছেন : চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ গুণরাজদী এলাকার মরহুম লুৎফুর রহমান পাটওয়ারীর স্ত্রী জেলা পরিষদের সদস্য মরহুমা খোদেজা রহমান এবং কচুয়া উপজেলার মনপুরা ও পালগিরি এলাকার দুইজন। মৃত এ তিনজনসহ চাঁদপুর জেলায় করোনাভাইরাস নিয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১১ জন।
গতকালকের ১৪ জনের মধ্যে আক্রান্ত অন্যান্য উপজেলার সংখ্যা হচ্ছে ফরিদগঞ্জ ৩, কচুয়া ২ ও শাহরাস্তি ১ জন। এদিকে চাঁদপুর শহরে যে ৭ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে তার মধ্যে মৃত খোজেদা বেগম ছাড়া অন্য ৬ জন হচ্ছে : শহরের লেকের পাড় এলাকার এক পরিবারের ৩জন (বাবা-মা ও মেয়ে), পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্য ১ জন, গুয়াখোলা এলাকার ১ জন এবং ওয়্যারলেস এলাকার এক ঔষধ ব্যবসায়ী। এছাড়া লক্ষ্মীপুরের বহরিয়া এলাকার একজন রয়েছেন।
