
চাঁদপুর জেলায় করোনা রোগী পাঁচশ’ ছাড়িয়ে গেছে। এ সংখ্যা গতকাল বুধবার পর্যন্ত প্রাপ্ত নমুনা রিপোর্টের। তাও মাত্র তিন সহস্রাধিক নমুনার মধ্যে আড়াই সহস্রাধিক নমুনার রিপোর্ট থেকে ওই সংখ্যা। নমুনা সংগ্রহ এবং টেস্টের পরিমাণ যদি আরো বাড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে বোধহয় এর নাগাল পাওয়া যাবে না। তখন করোনা রোগীর সংখ্যা গণনা করে রাখাটাও কঠিন হয়ে যাবে। এর সংক্রমণ এমন দ্রুত গতিতেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার আটটি উপজেলাতেই এখন আক্রান্তের সংখ্যা যেনো পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। মৃত করোনা রোগীর সংখ্যাও প্রতিদিন বাড়ছে।
গতকালকের রিপোর্টে নতুন করে আরো ৩০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। নতুন এই ত্রিশজনসহ জেলায় মোট আক্রান্ত রোগী হচ্ছে ৫০৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায়ই হচ্ছে ১৭৮ জন। আর মৃত ৪৩ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ১২ জন।
গতকাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মোট রিপোর্ট আসে ৯০ জনের। এর মধ্যে পজিটিভ রিপোর্ট আসে ২৪ জনের। এর বাইরে মতলব আইসিডিডিআরবির পৃথক ১০ জনের রিপোর্ট আসে। এই দশজনের মধ্যে পজিটিভ হচ্ছে ৬জন। উভয় সংখ্যাসহ জেলায় গতকাল মোট আক্রান্ত রোগী হচ্ছে ৩০ জন। এই ত্রিশজনের উপজেলা ভিত্তিক সংখ্যা হচ্ছে সদরে ১৭, ফরিদগঞ্জে ৪, হাজীগঞ্জে ৩ এবং মতলব দক্ষিণে ৬ জন। চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জন চাঁদপুর শহরের। আর বাকী ৩ জন শাহমাহমুদপুর, কল্যাণপুর ও বাগাদী ইউনিয়নের।
পজিটিভ ত্রিশজনের মধ্যে মৃত চারজন। এরা হচ্ছেন ফরিদগঞ্জের আজিজ মোল্লা (৬৫), রনি গুপ্ত (৬১), হাজীগঞ্জের মাজেদা বেগম (৫০) এবং চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখা এলাকার মফিজুর রহমান (৬৫)। এছাড়া মৃত ৪৩ জনের উপজেলাভিত্তিক সংখ্যা হচ্ছে : চাঁদপুর সদর ১২, হাজীগঞ্জ ১৩, ফরিদগঞ্জ ৬, শাহরাস্তি ৩, কচুয়া ৪, মতলব উত্তর ৪ ও মতলব দক্ষিণ ১জন।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, গতকাল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা থেকে স্যাম্পল পাঠানো হয়েছে ৩ হাজার ৪শ’ ৪০ জনের। এর মধ্যে গতকালই ছিলো ১৬৭ জনের। এর মধ্যে রিপোর্ট এসেছে ২ হাজার ৭শ’ ১ জনের। প্রাপ্ত রিপোর্টের মধ্যে পজিটিভ অর্থাৎ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে মোট ৫শ’ ৮ জন। রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় আছে ৭শ’ ৩৯ জনের। এদিকে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১শ’ ৪২ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩শ’ ২৩ জন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন জানান, তাঁর উপজেলায় নূতন করে যে ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে শাহমাহমুদপুর, কল্যাণপুর ও বাগাদী ইউনিয়নে একজন করে তিনজন। আর বাকি ১৪ জন হচ্ছেন চাঁদপুর শহরের। এদের অবস্থান হচ্ছে : চাঁদপুর পুলিশ লাইন্সে একজন (৪৫), শিলন্দিয়া এলাকায় একজন (৪৭), ষোলঘর বিটি রোড এলাকায় একজন (৪০), জোড়পুকুর পাড় এলাকায় দুজন, পুরুষ (২৪) ও নারী (৪৮), ওয়াপদা গেট এলাকায় দুজন (৪২) ও (২৬), মুখার্জীঘাট এলাকায় একজন (৫৩), স্টেডিয়াম রোড এলাকায় একজন (৪০), তালতলা এলাকায় এক শিশু (১০), মমিনপাড়া এলাকায় একজন (৪২), চিত্রলেখা এলাকার মৃত মফিজুর রহমান (৬৫) এবং চাঁদপুর শহরের একটি এলাকায় ৩১ বছরের একজন যুবকসহ অন্য একটি এলাকায় আরো একজন।
