
মিজানুর রহমান
নৌ পথে লঞ্চের ন্যায় সড়কে দূরপাল্লার বাসেও যাত্রী সঙ্কট চলছে। তবে চট্টগ্রাম রূটে রাতের বেলায় যাত্রীর চাপ বেশি হয় বলে জানা যায়। চাঁদপুর-কুমিল্লা, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম এ চারটি দূরপাল্লার রূটে বোগদাদ, পদ্মা, সততা, একতা, হিলশা ও সৌদিয়া পরিবহনের বাস চাঁদপুরে চলাচল করছে। যাত্রী সঙ্কট থাকায় এসব পরিবহনের অর্ধেক গাড়ি চালানো হচ্ছে আর অর্ধেক চলছে না বলে জানান চাঁদপুর পৌর বাসস্ট্যান্ডে থাকা টিকেট কাউন্টারের সুভারভাইজার, বাসের ড্রাইভার ও বাস মালিক প্রতিনিধি। তারা বলেন, যাত্রী পরিবহন অবস্থা তাদের খুবই খারাপ যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় সীমিত যাত্রীর মধ্যেও কম যাত্রী পাচ্ছে তারা।
যাত্রী সাধারণের অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী মোটামুটি যা-ই হয়, বাস ছাড়ার পর নন স্টপেজ থেকেও যাত্রী তুলছে। ভাড়াও আদায় করছে দ্বিগুণ। সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর দূরপাল্লার বাস চললেও যাত্রী নেই বাসে। নির্ধারিত অর্ধেক আসনেও যাত্রী পরিপূর্ণ হচ্ছে না। আর যাত্রী কম থাকায় কমেছে বাসের ট্রিপ সংখ্যাও। আগে যেখানে ২০ মিনিট আধা ঘণ্টা পর পর বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যেতো, সেখানে এখন যাত্রীর অভাবে অর্ধেক বাস মালিক পক্ষ বন্ধ রেখেছে।
বাস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খুব জরুরি না হলে কোথাও যাচ্ছে না মানুষ। চাঁদপুর বাস টার্মিনালে ১৫-২০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বেশিরভাগ বাস ছেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে। বাস টার্মিনালেও যাত্রীদের আনাগোনা খুব কম।
সিলেট রূটে চলাচলকারী সততা ও একতা পরিবহনের সুপারভাইজার হারুন বলেন, ৪১ সীটের গাড়িতে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ জন। এ রূটে তাদের দিনে ৩টি ও রাতে ২টি মোট ৫টি বাস চলতো। সেখানে মালিক পক্ষ জনস্বার্থে ৩টা বাস চালাচ্ছে। এর মধ্যে দিনে ২টি ও রাতে চলছে ১ টি।
ঢাকা রূটের পদ্মা পরিবহনের টিকেট কাউন্টার প্রতিনিধি শফিক গাজী বলেন, ২০ মিনিট পর পর আগে এ রূটে ৫০টি বাস চলতো। এখন করোনা পরিস্থিতিতে সারাদিনে গাড়ি চলে মাত্র ১৫টার মতো। তাও যাত্রী কম। বাস মালিক অনেকে আপ-ডাউন ট্রিপে ৪/৫ হাজার টাকা লোকসান দিচ্ছে। স্টাফরাও ঠিকমত বেতন পায় না। চাঁদপুর-কুমিল্লা বোগদাদ পরিবহনের লাইনম্যান ছলেমান বলেন, চাঁদপুরের বাস রূটের অবস্থা শোচনীয়, যাত্রী খুবই কম। ৪৫ সীটের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ২৩ জন যাত্রী বহন করার কথা। সে পরিমাণ যাত্রী স্ট্যান্ডে হয় না। তিনি জানান, ৭ মিনিট পরপর বোগদাদ ছেড়ে যায়। এখন তিনভাগের একভাগ গাড়ি চলছে। চাঁদপুর টু চট্টগ্রাম রূটের হিলশা ও সৌদিয়া পরিবহনের কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, যাত্রী সঙ্কটের কারণে হিলশা পরিবহনের ১৫টি বাসের মধ্য ৫/৬টি এবং সৌদিয়া পরিবহনের ৭টির মধ্য ৩/৪ টি গাড়ি চলছে।
সৌদিয়া পরিবহনের ১৮৯১নং গাড়ির ড্রাইভার ইয়াছিন বলেন, অর্ধেকের কম যাত্রী হয়। লস হলেও মালিক পক্ষ গাড়ি চালিয়ে নিচ্ছে। বাসের ভাড়া বাড়ায় যাত্রী কম বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে করোনাকালীন গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও তা কমিয়ে ৬০ শতাংশ করে মন্ত্রণালয়। আর ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে বাস চলাচল শুরু হয়।
