
চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩শ’ ৮২ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলায়ই আক্রান্ত ৫শ’ ২৩ জন। যা শতকরা হারে ৩৭.৮৪ ভাগ। এদিকে সদর উপজেলায় আক্রান্তের মধ্যে ৮৭.৫৭ ভাগই হচ্ছে চাঁদপুর শহরে। এই সংখ্যা হচ্ছে ৪শ’ ৫৮ জন। পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডেই এই ৪৫৮ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নে আক্রান্ত হয়েছে ৬৫ জন। এখনো করোনামুক্ত আছে তরপুরচ-ী, হানারচর ও রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন।
এদিকে মৃত্যুর সংখ্যা জেলায় মোট ৬৭ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় হচ্ছে ২০ জন। এই ২০ জনের মধ্যে চাঁদপুর শহরে হচ্ছে ১৪ জন। এসব বিস্তারিত তথ্য জানালেন চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন।
তিনি আরো জানান, সদর উপজেলায় যে ৫২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে গেছেন ২শ’ ৮৩ জন। যা আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৫৪.১১ ভাগ। আর আক্রান্তের তুলনায় এ উপজেলায় মৃত্যুর হার ৩.৮২ ভাগ। ডাঃ পলিন আরো জানান, এ উপজেলার ২শ’ ২০ জন রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের অধিকাংশই বাড়িতেই আছেন এবং প্রতিনিয়ত তাদেরকে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া হচ্ছে। আমার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে অধীনস্থ ডাক্তারগণকে (সহকারী সার্জন) ভাগ করে দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছি কারা কারা কোন্ কোন্ রোগীর নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন। সার্বিক দিক আমি নিজে মনিটরিং করা ছাড়াও রোগীদের খোঁজখবর আমিও নিয়মিত নিয়ে থাকি। এর বাইরে স্যাম্পল কালেকশান এবং মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের দিকগুলোও আমাকে দেখতে হয়। তিনি বলেন, দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগেই আমাকে ঢাকা গিয়ে এর উপর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানের সর্বস্ব দিয়ে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ডাঃ সাজেদা বেগম পলিনকে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ছাড়াও পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের সার্বিক বিষয় তাঁকে দেখতে হচ্ছে।
এদিকে সদর উপজেলায় রোগী বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি চাঁদপুর শহরকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে আসা মানুষের ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়াকে উল্লেখ করেন। এতে করে শহরে এ ভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হয় বেশি।
