
দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চাঁদপুরেও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনটাই আভাস দিয়েছেন চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাবুল আক্তার।
ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা-মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চাঁদপুরে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনার পানি চাঁদপুর পয়েন্টে বিপদসীমার দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জোয়ারে মেঘনার পানির পরিমাণ ৪.৫৩ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়।
ওই সময় চরাঞ্চলসহ নদীর দুই পাড়ের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনের সান্ধ্যকালীন জোয়ারে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাটের পন্টুন সংযুক্ত গ্যাংগুয়ে তলিয়ে যাওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে।
গত দুই দিনের জোয়ারে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে মেঘনার চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে নদী ভাঙ্গনও।
হাইমচরের সাহেবগঞ্জ, মিয়ারবাজার, চরভৈরবী, ঈশানবালা, মাঝেরচর, তেলির মোড়, চাঁদপুর সদরের হানারচর, গোবিন্দিয়া, ইব্রাহিমপুর, রাজরাজেশ্ব ইউনিয়নে ভাঙ্গন চলছে।
এদিকে, পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করায় বড় এই দুই নদীর বিশাল পানির চাপে হুমকির মুখে রয়েছে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ।
ভাঙ্গন কবলিত ও পানিবন্দী লোকজন তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার আরো জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চাঁদপুরে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে এখানকার পানি দাঁড়ায়ে থাকে না। জোয়ারে বৃদ্ধি পেলে, ভাটায় কমে যায়। ডেঞ্জার লেভেলের পরিমাণ ছিল দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার।
চাঁদপুরের দুটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই তিনটি বাঁধের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের জন্য প্রায় ৩ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
