
নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় মোস্তফা কামাল (৩৪) নামে চাঁদপুরের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জনের মৃত্যু হলো।
৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ৫টার দিকে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন আছেন ২০ জন। বিষয়টি শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোস্তফা কামাল চাঁদপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড জিটি রোডে দক্ষিণ গণি মিজি বাড়ির আবদুল করিম মিজির বড় ছেলে। তার মা-বাবা, সহোদর দু’ভাই ও স্ত্রী লুবনা আক্তারের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মোস্তফা কামালের বন্ধু আল ইমরান সরকার জানান, সে তার পরিবারের একজন চালিকা শক্তি ছিল। নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকায় সে টিটু স্যার নামে সকলের পরিচিত ছিলেন। গত বছর সে বিয়ে করেছে। তার শ্বশুর বাড়ি কোড়ালিয়ার নতুন রাস্তা এলাকায়।
দক্ষিণ বিষ্ণুদী বায়তুছ ছালাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গতকাল শনিবার বাদ মাগরিব তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন ওই মসজিদের ইমাম মাওঃ মোঃ ইয়াছিন। জানাজায় বিপুল সংখ্যক মুসলি্ল অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস পাইপ লাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়াহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর ডাঃ সামন্ত লাল সেন জানিয়েছিলেন, তাদের সবারই ডিপ বার্ন রয়েছে। তবে শতাংশের হিসেবে কোনো রোগীর কতটুকু বার্ন হয়েছে তা তাৎক্ষণিক বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, কেউ শঙ্কামুক্ত নন।
এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম মৃত্যু হয় জুয়েল নামের এক শিশুর। এরপর রাতে ও সকালে অন্যদের মৃত্যু হয়। মৃতের তালিকায় রয়েছেন মসজিদের মুয়াজ্জিনও।
এদিকে প্রাথমিকভাবে এসি নয় গ্যাসলাইন থেকে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ কথা জানান তিনি।
এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস একটি, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি ও জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
