
মতলবের নারায়ণপুর টাওয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিস ও ট্রমা সেন্টারে গত ৮ নভেম্বর সকালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর জান্নাতুল ফেরদাউস নামে এক প্রসূতির ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রসূতির পিতা ফয়েজ আহমেদ গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।
প্রসূতির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৭ নভেম্বর রাতে প্রসব ব্যথা নিয়ে নারায়ণপুর টাওয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিস ও ট্রমা সেন্টারে জান্নাতুল ফেরদাউসকে ভর্তি করানো হয়। পরদিন সকালে ৮ নভেম্বর তাকে সিজারিয়ান অপারেশন করা হলে ভুল চিকিৎসার কারণে তাৎক্ষণিক রোগীর খিচুনি শুরু হয়। অবস্থার অবনতি দেখা দিলে হাসপাতালের ডাক্তার রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন দুপুরে প্রসূতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রসূতির প্রবাসী স্বামী মহিন প্রধান তার স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্ত্রী হত্যার বিচার দাবি করেন।
প্রসূতির পিতা ফয়েজ আহমেদ জানান, ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়ের মৃত্যু হলো। আমার দুটি নাতি-নাতনী মা-হারা হলো। এ হাসপাতালে এমন মৃত্যুর অভিযোগ অনেক রয়েছে। আমি সরকারের কাছে আমার মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং এ হাসপাতাল বন্ধ করার দাবি জানাই। যাতে ভবিষ্যতে আমার মেয়ের মতো আর কারো মৃত্যু না হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয়রা জানায়, প্রসূতির পরিবারের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সালিসি বৈঠক চলছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারকে জরিমানা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার ভুয়া চিকিৎসক ওমর ফারুক প্রতারণা করে বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার নেন। পরে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভুয়া ডাক্তার ওমর ফারুকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে বিএমডিসি।
প্রসূতি মৃত্যুর বিষয়ে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডাঃ বাকী বিল্লাহ জানান, আমার কাজ অ্যানেস্থেসিয়া করা। এরপরের বিষয় আমি জানি না।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও সার্জন ডাঃ মুহিবুর রহমান সাদাত জানান, এ বিষয়ে ডাক্তার বাকী বিল্লাহ সব বলতে পারবেন। ওনার সাথে যোগাযোগ করেন।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, নিউজ লেখেন। নিউজ লেখলে কী হবে। সেটা আমি পরে দেখবো।
