
কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সারাদেশে চলছে এক সপ্তাহ পর আবারো এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন। সংক্রমণ ব্যাপকহারে বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না বেশির ভাগ মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনার সংক্রমণে ঝুঁকিও বাড়ছে। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় কাঁচাবাজারগুলোতে এখনও গাদাগাদি করে বেঁচা-কেনা করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি এমন যে, সেখানে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীও তেমন একটা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি বাজারগুলোতে।
এদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারকে ও প্রশাসনের নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা না হলে ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশে করোনা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) কচুয়া বাজার ,সাচার বাজার, রহিমানগর বাজার ও ডুমুরিয়া বাজার,কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়- সবজি, মাছ, মুদি, ফল বিক্রেতাসহ অধিকাংশ দোকানদারই মাস্ক ছাড়া পণ্য বিক্রি করছেন। একইসঙ্গে মাস্ক ছাড়াই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। মানছেন না নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব। পাশাপাশি বেশিরভাগ ক্রেতা ও বিক্রেতাকে মাস্ক ছাড়াই বেঁচা কেনা করতে দেখা গেছে। অনেকের মাস্ক থাকলেও ব্যবহারে উদাসীন। ক্রেতাদের কারো কারো মুখে মাস্ক থাকলেও বিক্রেতাদের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে আবার মুখে মাস্ক পরলেও সেটি আবার কারো কারো ঝুলছে থুঁতনিতে। এছাড়া বাজারে ছোট ছোট চায়ের দোকানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখেই এসব চলতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এগুলো মানুষ কয়েকদিন আগে থেকেই কিনছেন। এজন্য তেমন ভিড় নেই।
কচুয়ায় বাজার করতে আসা সোহাগ বলেন- আজকে বাজারে একটু ভিড় কম। তবে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। ভিড় কম থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেকেই। অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না, আবার দোকানগুলো নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকছে না। এছাড়া বাজারে কারো কোনো তদারকি নেই। এ কারণে মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের উচিত দ্রুত বাজার তদারকিতে নামা। তা না হলে কষ্টে থাকা মানুষগুলোর কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এই মহামারির মধ্যেও ব্যবসায়ীরা অনৈতিক কাজ করছে।
সবজি দামের বিষয়ে ব্যবসায়ী কচুয়া বাজারের আল আমিন মোল্লা বলেন- সবজির দাম এমনিতেই বাড়ছিল। রোজার কারণে দাম আরও বেড়েছে। সবাই ভাবে আমরা সবজির দাম বেশি রাখছি। আড়তে গেলেই বুজতে পারবেন সবজির দাম কি হারে বেড়েছে। আমরা অল্প লাভেই সবজি বিক্রি করেছি। আড়তে দাম বাড়লে তো আমাদের কিছু করার ইেন।
উল্লেখ্য, সরকারের ১৪ এপ্রিল ভোর থেকে ২১ এপ্রিল মধ্য রাত পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণার পর লকডাউন অব্যাহত রাখা সহ পূর্বের সকল বিধি- নিষেধ আরোপের সময়সীমা আগামী ২১ এপ্রিল মধ্য হতে ২৮ এপ্রিল মধ্য রাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কচুয়া পৌর মেয়র নাজমুল স্বপন জানানÑ কচুয়া সহ সারা দেশের বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি বেড়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে মজুদ করছে। এজন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিত্যপণ্য না কেনার আহ্বান।
চাঁদপুরনিউজ/এমএমএ/
