
সংবাদদাতা, চাঁদপুর নিউজ: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার পল্লীর একটি বাজারে মিলল প্লাস্টিকের ডিম ! যা’নিয়ে ব্যবসায়ী ও জনগনের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃস্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে। অনেকে ডিম খাবে না’বলে তাৎক্ষনিক মন্তব্য করেছেন বলে গনমাধ্যম কর্মী কবির হোসেন থেকে জানা গেছে।
এর পূর্বে গত ২ বছর আগে চাঁদপুর শহরের পালবাজারের একটি পাইকারী ডিমের দোকানে ও শহরের ব্যাংক কলোনী এলাকার একটি খুচরা দোকানে এই রুপ প্লাস্টিকের ডিম পাওয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করার পর প্লাস্টিকের ডিম বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এখন আবার নতুন করে যখন আবার জেলা শহরের বাহিরে হাজীগঞ্জ উপজেলার পল্লীর বাজারে প্লাস্টিকের ডিম পাওয়া যাচ্ছে,সেখানে প্রশাসনের কঠোর প্রদক্ষেপ নেওয়া হলে এ রুপ চক্রটি নিমূল হয়ে যাবে বলে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে মতামত প্রকাশ করেছেন।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাজারের একটি দোকানে বিক্রি হওয়া ডিমগুলো প্লাস্টিকের ডিম কি না তা’ নিশ্চিত হতে শনিবার রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে হাজীগঞ্জ বাজার থেকে এক ক্রেতা বেশ কিছু ডিম বাসায় নিয়ে যান। তাতে ডিমের মধ্যে ব্যতিক্রম কিছু পরিবর্তন দেখেন। এর পরেই ওই ক্রেতা ডিমগুলো সেই দোকানে নিয়ে যান। আর এগুলো প্লাস্টিকের ডিম বলে সন্দেহ করেন। এর পরেই বিষয়টি জেনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক শামছুল ইসলাম রমিজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ বাজারের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন তালুকদার জানান, গত বুহস্পতিবার পৌর হকার্স মার্কেটের মাইশা স্টোর থেকে ৩০টির এক কেইচ ডিম ক্রয় করেন। পরে এসব ডিম বাসায় নিয়ে রান্না করতে গেলে ডিমগুলো রাবারের মতো দেখতে পান। তখনই তিনি ডিমগুলো মাইশা স্টোরে ফেরত দেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।
ঘটনা সম্পর্কে মাইশা ষ্টোরের ইব্রাহিম খলিল জানান, ডিমগুলো প্লাস্টিকের কি না জানি না, তবে আমি শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজার থেকে পাইকারি ডিমের আড়ৎ থেকে ডিম এনে সে ডিম আমি তা’ খুচরা হিসেবে বিক্রি করে থাকি। ডিমগুলো পুরাতন কিংবা নষ্ট হতে পারে কিন্তু প্লাসটিকের ডিম আসবে কোথায় থেকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয় হাজীগঞ্জ উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক শামছুল ইসলাম রমিজ জানান, খবর পেয়ে আমি ওই দোকানে গিয়ে অভিযোগকারীর কাছ থেকে শুক্রবার ৩টি ডিম জব্দ করেছি। এর মধ্যে একটি ডিম সিলগালা করে দোকানিকে দিয়ে আসি আর বাকী দুইটি ডিম সত্যি প্লাস্টিকের ডিম কি না তা নিশ্চিত হতে সংরক্ষণ করে আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার মহাখালী জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে হাজীগঞ্জ বাজারে দোকানে বিক্রি হচ্ছে প্লাস্টিকের ডিম এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে অনেকের মধ্যেই খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। ক্রেতা সাধারন আংকিত হয়ে পড়েন। অনেকে মন্তব্য করেন শুনেছি প্লাস্টিকের চাল নাকি তৈরী করছে চিন। এখন আবার প্লাস্টিকের ডিমও তৈরী হচ্ছে মানুষকে আর কত ভাবে ঠকানো হবে।
