প্রতিনিধি

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে কোটি টাকার সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি দিন দিন লোকসানের মুখে পড়ছে। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, সরকারি অফিসসহ টেলিফোন গ্রাহকদের। এই এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে যথাযথ গ্রাহক সেবা না পাওয়ার কারণে যে সকল গ্রাহক লাইন গ্রহণ করেছিলেন তারা এখন আবেদন করে টেলিফোন লাইনটি কেটে দিচ্ছেন।
অফিস সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধনের পর নারায়ণপুর এক্সচেঞ্জে ১২৮টি টেলিফোন সংযোগ চালু হয়। যান্ত্রিক ত্রুটি ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বর্তমানে ৩৭টি লাইন চালু থাকলেও তা কেবল কাগজে-কলমে আছে। গ্রাহক এ লাইন থেকে কোনো সেবা পাচ্ছে না।
জানা যায়, গত চার দলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য জিএম ফজলুল হক নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজের দক্ষিণ পাশে এ টেলিফোন ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০০৯ সালের মে মাসে মহাজোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর এমপি ২৫০ লাইন সুবিধা সম্পন্ন এ ডিজিটাল এক্সচেঞ্জটির উদ্বোধন করেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এর উপযুক্ত সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাহকরা। ৫৩০৬০ নম্বরের গ্রাহক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী জানান, আমি ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করে নিয়মিত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কথা বলতাম। কিন্তু সময় মতো লাইনে সংযোগ না পাওয়া, সংযোগ পেলেও কথা পরিষ্কার বুঝতে না পারা ইত্যাদি ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাকে। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান জানান, আমি উদ্বোধনের পর প্রথম গ্রাহকদের মধ্যে একজন। কিন্তু উপযুক্ত সুবিধা না পাওয়ায় আমি ৫৩০৪০ নম্বরের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দিতে বাধ্য হই। খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান সরকার জানান, কম খরচে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলার জন্য আমি অনেক উৎসাহ নিয়ে ল্যান্ড ফোনের সংযোগ গ্রহণ করি। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা ঝামেলায় পড়তে হয় আমাকে। তাই বাধ্য হয়েই আমি আমার ব্যবহৃত ৫৩০০৩ নম্বরের ফোনের সংযোগটি কেটে নেই। নারায়ণপুর অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোঃ জাকির হোসেন খান জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু টিএন্ডটি থেকে আমরা কোনো সুবিধা পাই না। উল্টো মাস শেষে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হয়। আমরা চাই আমাদের লেনদেনের সকল কার্যক্রম এই ফোনটির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে।
গ্রাহকদের সমস্যার কথা স্বীকার করে নারায়ণপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি ও মাইক্রোওয়েভ সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকার কারণে লাইন সংযোগে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই এক্সচেঞ্জের দু� সেট ব্যাটারীর মধ্যে এক সেট ব্যাটারী সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে যার ফলে গ্রাহক ঠিকমতো লাইন সংযোগ পাচ্ছে না। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ টেলিফোনিক সমস্যা সমাধানের জন্য দরখাস্ত জমা দিয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্রই সমস্যা সমাধান হবে। মুঠোফোনে চাঁদপুর টেলিকমের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলীর মতই সমস্যা ও তার আশু সমাধানের কথা জানান। কিন্তু গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা টিএন্ডটি অফিসে গেলে কর্মকর্তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ সমস্যার সমাধান হবে এই আশ্বাসই কেবল দিয়ে যাচ্ছেন। বাস্তবে কোনো ফলাফল তারা দেখতে পাচ্ছেন না। এদিকে এলাকার টেলিফোন গ্রাহকরা তাদের এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ আশু পদক্ষেপ নেবে বলে আশা পোষণ করেন।
