প্রতিনিধি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বাড়ির সামনের ভোটকেন্দ্রে প্রতি মিনিটে গড়ে ছয়টি করে ভোট পড়েছে।
কচুয়ার গুলবাহার এলাকার আশেক আলী খান উচ্চবিদ্যালয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রথম দুই ঘণ্টায় ৭০০ ভোট পড়েছে। অথচ এই কেন্দ্রের সামনে সকাল থেকে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি ছিল না।
আজ সকালে ভোটকেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। ভোটকেন্দ্রের সামনে ১০০ গজের মধ্যেই মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বাসভবন। গত তিন দিন ধরে তিনি এখানে অবস্থান করছেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি এই কেন্দ্রে ভোট দেন। তবে এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
জানা গেছে, এই কেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলিয়ে তিন হাজার ২৯৭ জন ভোটার রয়েছেন। সকাল ১০টার মধ্যে সাতটি ব্যালট বই শেষ হয়ে যায়। প্রতিটি ব্যালট বইয়ে ১০০টি পেপার থাকে। সেই অনুযায়ী, অঙ্কের হিসাবে প্রতি মিনিটে গড়ে ৫ দশমিক ৮৩টি ভোট পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের কোনো সারি নেই। কেন্দ্রের সীমানায় এই প্রতিবেদকদ্বয় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেছে, স্কুল ভবনের দোতলার বুথগুলো থেকে তড়িঘড়ি করে ২০-৩০ জন তরুণ নিচে নেমে ভোটারদের সারিতে করে দাঁড়িয়ে যান। জানা গেছে, ভোট দিয়ে আবারও সারিতে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। সকাল থেকেই এভাবেই জাল ভোট পড়ছে। একেকজন একাধিক ভোট দিয়েছেন।
এ ছাড়া এই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাহান শিশির ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর এজেন্ট আসেননি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট না থাকায় এভাবেই নির্বিচারে চলেছে ভোট।
এই সম্পর্কে জানতে চাইলে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা গোলাম মাওলা মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এজেন্ট পাঠানোর দায়িত্ব প্রার্থীর। আমরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও এজেন্টের নিরাপত্তা দিই।’ তিনি জানান, জাল ভোট হচ্ছে কি না তা বলা মুশকিল। কেননা ভোটারদের শনাক্ত করেন প্রার্থীর এজেন্টরা।
কচুয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শাহজাহান শিশির, আনারস প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইসহাক সিকদার, টেলিফোন প্রতীক নিয়ে বিএনপি-সমর্থিত শাহজালাল প্রধানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

