চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ একই থানায় চাকরী করার কারণে নিজেকে অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি জাহির করে সাধারণ মানুষের সাথে অশোভন আচরণ, মারধর, ভয়ভীতি দেখানোর বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবারে মঠখোলা ফ্লাট বাজায় অনৈতিক কার্যকলাপ করার অপরাধে স্থানীয়রা দু’জনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। মডেল থানার এএসআই আওলাদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আটক করা আদর্শ হোমিও প্যাথিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের ছেলে মাকছুদের পরিচিত হওয়ায় ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এতে স্থানীয় প্রতিবন্ধী আরিফ ঢালী (২৭) ও সুমন খান (২৮)সহ কয়েকজন প্রতিবাদ করলে কনস্টেবল ফয়েজ তাদেরকে বেদম পিটিয়ে আহত করে এবং তাদের কাছে থাকা ৩টি মোবাইলসেট ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এমনটাই অভিযোগ করলেন আহত যুবকরা। তারা আরো জানায়, এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় কনস্টেবল ফয়েজ প্রতিবন্ধী আরিফ ঢালী ও সুমনকে টেনে হেছড়ে হাত বেঁধে পুলিশ পিকআপে জোড়পূর্বক উঠায়। এ সময় এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অবশেষে অসহায় ওই দুই যুবককে পুলিশের কাছ থেকে উদ্ধার করে।
এছাড়াও কনস্টেবল মডেল থানায় ডিউটিরত অবস্থায় থানা হাজতের সামনে প্রকাশ্যে ধুমপান করে পরিবেশ দূষিত করে। গত কয়েকদিন পূর্বে মৈশাদী থেকে এক যুবককে পুলিশ আটক করে থানায় আনার পর তার স্বজনরা থানা হাজতে দেখা করে ফেরার পথে পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজকে ২০ টাকা চা খাওয়ার জন্য দিলে সে উত্তেজিত হয়ে ১শ’ টাকা দিতে বলে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ফয়েজ দর্শনকারীকে পিটিয়ে আহত করে থানা থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত আব্দুল কাইয়ুমকে আহতের স্বজনরা জানিয়ে এর বিচার দাবি করে। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এর সুবিচার করবে বলে আহত পরিবারকে আশ্বস্ত করে। তারপরেও সে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে।
জানা যায়, দীর্ঘ ৮ বছর পূর্বে ফয়েজ সদর সার্কেল সিরাজুল ইসলাম থাকাকালে তার বডিগার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলো। সে সময়ে কোর্টের পিছনে জিটি রোড সরকার বাড়িতে এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পালিয়ে বিয়ে করে। শ্বশুড় বাড়ি চাঁদপুর হওয়ায় সেই প্রভাবে সে একের পর এক মানুষের সাথে অশোভন আচরণ, মারধর ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে।
একটি সূত্র থেকে জানা যায়, জাটকা ইলিশ নিধন বন্ধের অভিযানের সময় কনস্টেবল ফয়েজ নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বহরিয়া, হরিণা, আনন্দ বাজারসহ কয়েকটি স্পটে গিয়ে লোকজন নিয়ে চাঁদা আদায় করে ও মাছ আটক করে বস্তা ভরে শ্বশুড় বাড়ি নিয়ে যায়। এছাড়াও শহরের ফ্লাট বাসায় পতিতা ব্যবসায়ীদের সাথে আঁতাত করে প্রতিমাসে মোটা টাকা আদায় করে।
এ সম্পর্কে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, ফয়েজ অত্যান্ত বেয়াদব প্রকৃতির লোক। সে আমাদের সাথে কোথাও অভিযানে গেলে নিজেই পুলিশ কর্মকর্তার প্রভাব খাটায়। তার সামনে তার চেয়ে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে থাকলেও তার কোন ভ্রুক্ষেপই থাকে না। নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করে। তার এরূপ আচরণের কারণে দেশের কুমিল্লা থেকে জায়গা জমি বিক্রি করে তার ফ্যামিলি খাগড়াছরিতে গিয়ে জায়গা কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তাকে চাঁদপুর জেলা থেকে অপসারণ করা না হলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

