আজ ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে চাঁদপুর পাক হানাদার বাহিনীর বলয় থেকে মুক্তি পেয়েছিল। চাঁদপুর থানার সম্মুখে বিএলএফ বাহিনীর প্রধান মরহুম রবিউল আউয়াল কিরণ প্রথম চাঁদপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর মুক্ত দিবস পালনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ১৯৯২ সাল হতে আনুষ্ঠাানিক ভাবে মাস ব্যাপী বিজয় মেলা শুরুর মাধ্যমে ৮ ডিসেম্বর পালন শুরু হয় চাঁদপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল চাঁদপুরে দখলদার বাহিনী দুটি বিমান থেকে সেলিং এর মাধ্যমে প্রথম আক্রমনের সূচনা করে। প্রথম দিনের হামলায় চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারের একজন নারী পথচারী নিহত হন। পর দিন ৮ এপ্রিল বিকেলে প্রায় ৫শ পাকসেনা বোঝাই একটি বহর চাঁদপুর আসে। শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে চাঁদপুর কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে। এ স্কুলের মাঠ থেকে প্রতিদিনকার ন্যায় এক বৃদ্ধা গরু-ছাগল বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় পাক বাহিনীর সদস্যরা রাতের খাবার জোগাড় করার জন্যে প্রথম অপারেশন হিসেবে ওই বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে বৃদ্ধার একটি গরু নিয়ে তারা রাতের ভোজন কাজ সারে। ওই দিন রাতেই চাঁদপুরে অবস্থানরত ২ নাম্বার সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা বিচ্ছিন্ন ভাবে পাকহানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। হামলা দেখে পাক হানাদার বাহিনীরা এলোপাথাড়ি গুলিছুড়তে শুরু করে। ওখানো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মারাত্মক আহত হন। ৯ এপ্রিল পাকবাহিনীরা ভোরে শহরের শহরের প্রবেশ করে চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ইসমাইল খান ভলান্টিয়ার (৫৫) নামে এক ব্যাক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। চাঁদপুর বড়ষ্টেশন মোলহেড এলাকায় হানাদার বাহিনীরা মক্তিযোদ্ধাও সাধারণ মানুষদের মেরে মেঘনা নদীতে ফেলে দিতো। চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলার বীর মুক্তিযুদ্ধাদের নামের তালিকাসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মুখে স্থাপন করা হয়েছে স্মৃতি স্তম্ভ। এভাবেই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ নাছিরকোর্ট এলাকায় বিভিন্ন স্থানে নিহত শহীদদের সমাহিত করে রাজারগাঁও নাছিরকোর্ট এলাকায়। সেখানেও ১১জন শহীদের কবরসহ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বর্বরতম হত্যাকান্ড, লুটপাট, ভাংচুর অগ্নিকান্ড চালায় পাকহানাদার বাহিনীরা। মোলহেড এলাকায় চাঁদপুর পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি হয় রক্তধারা। তৈরি হয় চাঁদপুরের প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কালাম, খালেক সুশীল, ও শংকর স্মৃতিস্তম্ভ এবং তৈরি করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ অঙ্গীকার। ৭১’র এর মুক্তিযোদ্ধে চাঁদপুর বড়ষ্টেশন মোলহেড এলাকায় হানাদার বাহিনীরা মুক্তিযোদ্ধাও সাধারণ মানুষদের মেরে মেঘনা নদীতে ফেলে দিতো
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

