স্টাফ রিপোর্টারচাঁদপুরে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এবার মোট ৬৭টি কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ৬শ’ ২৭জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে এসএসসিতে ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ২৮ হাজার ৪শ’ ৮জন, এসএসসি ভোকেশনালে ১০টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১শ’ ৬৭জন এবং দাখিল পরীক্ষায় ১৮টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৫২জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আবদুল হাই-এর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুদ হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সালেহ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহীন, সদর উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম সাইফুল হক, হাজীগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহআলী রেজা আশরাফি, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যায়লয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন পাটওয়ারী। এ সময় বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, পরীক্ষার সময় কেন্দ্রে পুলিশ ও ম্যজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকবে। প্রয়োজনে অসাধু পন্থা অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে সকাল ৮টার মধ্যে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিত থাকতে হবে। অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কেউ ব্যর্থ হলে আমাদের জানাবেন আমরা সহযোগিতা করবো। যে সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে পূর্বে অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। তারা যাতে মনোরম পরিবেশে বসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও নকল মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীতিমালা মেনে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করার জন্য সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দ্র সচিবদের অনুরোধ জানানো হয়। নকল করার অবৈধ পন্থা অবলম্বনের কারণে এই জেলার ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কার্যক্রম কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। বিগত বছরের কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আবদুল হাই। এ সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত সমূহের মধ্যে রয়েছে, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডের নিদের্শনা অনুসারে কেন্দ্র সচিব সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শক্রমে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করবে। পরীক্ষার পূর্বে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দ্র সচিব পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করবেন। পরীক্ষা পরিচালনা বিষয়ে কক্ষ পরিদর্শকের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করবে। কেন্দ্র সচিবগণ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিদর্শকদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করবেন। তাদের পরীক্ষা নীতিমালা ও কার্যবিবরণী সিদ্ধান্ত সমূহ পাঠ করে শুনিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। কেন্দ্র সচিব পরীক্ষার্থীদের সিটপ্ল্যান নির্ণয় করবে।
পরীক্ষায় ৬ ফুট বেঞ্চে ২ জন, ৬ ফুটের নিচের বেঞ্চে ১ জন করে পরীক্ষার্থী বসাতে হবে। বেঞ্চের সিটপ্ল্যান জেড আকারে হতে হবে এবং ১ জন লোক যাতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে এমন দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো মতেই এক বেঞ্চে একই স্কুলের ২শিক্ষার্থী বসতে পারবে না। কোন কেন্দ্র সচিব নকল প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরীক্ষার হলে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিব তার অফিস কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় তাদের তল্লাশি করতে হবে। প্রয়োজনে ছাত্রীদের পৃথক কক্ষে নিয়ে মহিলা শিক্ষিকা দ্বারা দেহ তল্লাশি করতে হবে। শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি ছাড়া অন্য কিছু সাথে নিতে পরবে না। পুলিশের পাহারা প্রশ্নপ্রত্র কেন্দ্রগুলোতে পেঁৗছাতে হবে। পরীক্ষা চলাকালিন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের কক্ষ পরিদর্শনের দায়িত্ব দেয়া যাবে না। আত্মীয় আছে এমন শিক্ষককে কেন্দ্র পরিদর্শন থেকে বিরত রাখতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো শিক্ষক তথ্য গোপন রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশে পাশে ফটোকপির দোকান খোলা রাখা যাবে না। পরীক্ষার সময়ে সংশ্লিষ্টদের পরিচয়পত্র বহন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যনেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সদস্যরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। পরীক্ষা চলাকালীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রেলরুম (০১৯১৯৪৮৪৬০৬, ০১৯১৩৩১৩৮৫৩, ০৮৪১৫৬০২৯) সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা এবং কক্ষ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
