স্টাফ রিপোর্টার:
কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের নাউলা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী দু’ সন্তানের জননী ও প্রায় ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শারমিন আক্তার (২৫) ২ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে গতকাল শনিবার ভোর রাতে কুমিল্লা হাসপাতালে মারা যান। তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।
সরজমিনে গেলে শারমিনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে শারমিন বমি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার স্বামী ও শ্বাশুড়ি বুলু বেগম কেনো এমন করছে পুত্রবধূকে জিজ্ঞেস করলে বুঝতে পারে তার মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিক স্বামীর পরিবারের লোকজন তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে গেলে কর্মরত ডাক্তার অবস্থা অবনতি দেখে তাকে কুমিল্লা কুচাইতলী হাসপাতালে প্রেরণ করেন সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তিনি মারা যান। শারমিন একই ইউনিয়নের পাশাপাশি তালতলী গ্রামের ঈদগাহ বাড়ির সহিদুল ইসলামের মেয়ে। তার মৃত্যুতে দু’ পরিবারের মধ্যে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়া গেলেও শারমিনকে তার স্বামী শাহাবুদ্দিন তাদের পারিবারিক কলহে মাঝে মধ্যে মারধর করত বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় উভয়পক্ষের সমঝোতাক্রমে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দীন, ইউপি সদস্য মনির হোসেন ও আলী আকবরের মধ্যস্থায় তার স্বামীর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে দুপুর ১২টার পূর্বে এ সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় নারীরা তার লাশ ধৌত করার সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধরের আঘাত দেখতে পায় বলে জানান। এ ঘটনাটি শারমিনের পিতা ও ভাই ওমর ফারুককে অবগত করলে তারা ধারণা করেছে শারমিনকে মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওমর ফারুক বাদী হয়ে কচুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখাকালে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইবরাহীম খলিল জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ থানায় নিয়ে আসা হবে এবং ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শারমিনের লাশটি একনজর দেখার জন্য এলাকার শত শত লোকজন ভিড় জমায়।
