
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং এ ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চাঁদপুর জেলায় ৭ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মারা গেছেন। আর অন্য ৫ জন এ ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে গতকাল শনিবার ১১টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উক্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দুই জনের একজন হচ্ছেন মতলব উত্তর উপজেলায়, অপরজন হচ্ছেন হাজীগঞ্জের। আর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন সদর উপজেলার এবং অপর ২ জন ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলার। মতলব উত্তরের যিনি করোনা রোগী হয়ে মারা যান তিনি যেদিন তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে সেদিনই মারা যান। আর হাজীগঞ্জে মৃত ব্যক্তির মারা যাওয়ার ৫-৬দিন পর গতকাল তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিস এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে চাঁদপুর শহরের ১২নং ওয়ার্ডস্থ দর্জিঘাট এলাকায় খান বাড়ির মহররম খানের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৫৫) করোনার উপসর্গ নিয়ে নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন। তিনি গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিজনিত রোগে অসুস্থ ছিলেন। মারা যাওয়ার আগের দিন চাঁদপুর শহরের একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর পর ওই চিকিৎসক তাকে কোভিড-১৯ ভাইরাস পরীক্ষা এবং হাসপাতালে ভর্তির জন্যে পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি তা না করে বাড়িতে চলে যান। পরদিন শুক্রবার তার অবস্থার অবনতি হয়ে বাড়িতেই তিনি মারা যান।
একইদিন বিকেল ৩টায় চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডস্থ ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফয়েজ উল্যাহ (৭৫)। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়া গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের বাখরপুর গ্রামের বাসিন্দা। সপ্তাহকাল যাবৎ তিনি সর্দি জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গণভবনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোসলেম উদ্দিন বেপারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি তার গ্রামের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের ফরিদকান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তার বাবার নাম হাসমত বেপারী। জানা গেছে, তিনি ঢাকায় আক্রান্ত হন এবং তাঁর স্যাম্পল ঢাকায় দেয়া হয়। রিপোর্টও আসে পজিটিভ। এ রিপোর্ট আসার পরও তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। এক সপ্তাহ পর তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোডস্থ বটতলা এলাকায় মোঃ আবুল খায়ের (৫৫) নামে এক ব্যক্তি জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে মারা যান। তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার পশ্চিম মৈশাদী এলাকায়। তিনি এখানে বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটের সময় আবুল হাসনাত নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি মৃত্যুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার তেমন কোনো সুযোগই পেলেন না। এর আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে। হাসনাত কয়েকদিন যাবত জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীর ব্যথায় ভুগছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রাত ১টার পর তিনি চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হন।
এদিকে গতকাল সকাল ১০টার পর কচুয়া উপজেলার পালগীরি গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা ফজিলাতুন্নেসাকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা নেয়ার পথে মারা যান। এই বৃদ্ধা করোনার উপসর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতেই ক’দিন ভুগছিলেন। এর আগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার ছেলে মানিক সরকার মারা যান এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে তার স্বামী বাচ্চু সরকারও মারা যান। ১০ দিনের ব্যবধানে এই পরিবারের তিনজন করোনা ভাইরাস ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন।
